নয়াদিল্লি, ২৩ মে (আইএএনএস) : চলতি মে মাসে টানা তিন দফায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৫ টাকার কম বৃদ্ধি পেলেও, বিশ্বের অন্যান্য বড় অর্থনীতির তুলনায় ভারতে এই বৃদ্ধি সবচেয়ে কম বলে দাবি করা হয়েছে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তে। সরাসরি ভর্তুকি দেওয়া উপসাগরীয় দেশগুলি বাদ দিলে, এটিই নাকি বিশ্বের মধ্যে “সবচেয়ে কম উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি”।
তথ্য অনুযায়ী, দেশে যেসব রাজ্যে পেট্রোল-ডিজেলের দাম সবচেয়ে বেশি, তার বেশিরভাগই কংগ্রেস জোট পরিচালিত দক্ষিণের রাজ্য। এর মধ্যে রয়েছে তেলেঙ্গানা, কেরল, কর্ণাটক ও তামিলনাড়ু। এছাড়া এনডিএ-সমর্থিত অন্ধ্রপ্রদেশেও জ্বালানির উপর অত্যন্ত বেশি ভ্যাট ও অতিরিক্ত সেস ধার্য থাকায় সেখানে দাম অনেক বেশি।
অন্যদিকে, সবচেয়ে কম দামের রাজ্যগুলির তালিকায় রয়েছে বিজেপি শাসিত গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, হরিয়ানা, গোয়া ও অসম। যদিও মহারাষ্ট্র ও মধ্যপ্রদেশ বিজেপি পরিচালিত রাজ্য, তবুও সেখানে তুলনামূলক বেশি ভ্যাট ও সাম্প্রতিক সেসের কারণে দাম কিছুটা বেশি রয়েছে।
সর্বশেষ মূল্য সংশোধনের পর অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা ও কেরলে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ১১২ টাকার উপরে পৌঁছেছে। এর মধ্যে তেলেঙ্গানা ও কেরল ইন্ডি জোট পরিচালিত রাজ্য। জানা গেছে, এই তিন রাজ্যেই দেশে সর্বোচ্চ হারে ভ্যাট ধার্য করা হয়।
অন্ধ্রপ্রদেশে পেট্রোলের উপর ৩১ শতাংশ ভ্যাটের পাশাপাশি লিটার প্রতি ৪ টাকা অতিরিক্ত চার্জ ও রোড ডেভেলপমেন্ট সেস নেওয়া হয়। ফলে কার্যকর করের হার প্রায় ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে। তেলেঙ্গানায় পেট্রোলের দাম প্রায় ১১৬ টাকা ছুঁয়েছে। কেরলেও মূল ভ্যাটের সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা সেস যোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, হরিয়ানা, গোয়া ও অসমে পেট্রোলের দাম ১০২ টাকার নিচে বা আশেপাশে রয়েছে। এই ছয়টি রাজ্যই বিজেপি শাসিত।
সূত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারকে আবগারি শুল্ক কমানোর দাবি জানালেও বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলি নিজেদের আরোপিত ভ্যাট কমানোর ক্ষেত্রে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৭ মার্চ কেন্দ্র সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের উপর লিটার প্রতি ১০ টাকা করে আবগারি শুল্ক কমিয়েছিল। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি সেই সম্পূর্ণ ছাড় সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া, কেন্দ্রীয় সরকারের উপর অতিরিক্ত কর আরোপের অভিযোগও রাজ্যভিত্তিক তথ্যের সামনে টেকে না বলে দাবি সূত্রের। কারণ, সর্বোচ্চ কর আরোপকারী রাজ্যগুলির অধিকাংশই কেন্দ্রের বিরোধী রাজনৈতিক দলের শাসনে রয়েছে।
হরমুজ প্রণালী সংকটের সময় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১২৬ ডলারে পৌঁছলেও, ভারত সরকার পেট্রোলে প্রায় ২৪ টাকা এবং ডিজেলে প্রায় ৩০ টাকা প্রতি লিটার ভর্তুকি বহন করছিল বলে সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার পর থেকে ১৫, ১৯ ও ২৩ মে পর্যন্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলির মূল্য সংশোধন হওয়া পর্যন্ত মোট ৭৬ দিন ধরে ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। অথচ একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম ১০ শতাংশ থেকে শুরু করে কোথাও কোথাও ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।



















