ইম্ফল, ২৩ মে (আইএএনএস): মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিং শনিবার ঘোষণা করেছেন যে, ছয় নাগা গ্রামবাসী অপহরণের ঘটনায় তদন্তভার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল (ইউএনসি)-এর ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে রাজ্যের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কাঙপোকপি জেলার কনসাখুল গ্রাম থেকে অপহৃত ছয় নাগা গ্রামবাসীর মামলার তদন্ত করবে এনআইএ। পাশাপাশি, ১৩ মে কাঙপোকপি জেলায় তিন চার্চ নেতার হত্যার ঘটনাও ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৪ মে থেকে অপহৃত নাগা গ্রামবাসীদের খোঁজে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক অশান্তির শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত আটক অবস্থায় থাকা ১৪ কুকি নাগরিকের মুক্তির ক্ষেত্রেও ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিলকে সহযোগিতার আবেদন জানানো হয়েছে।
কুকি সম্প্রদায়ের সদস্যদের কাছেও মুখ্যমন্ত্রী আবেদন জানান, যাতে তারা নিখোঁজ নাগা গ্রামবাসীদের খুঁজে বের করতে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন। রাজ্যে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সমস্ত সম্প্রদায়কে শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকারের প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করতে হবে।
ইউএনসি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সভাপতি এন.জি. লোরহো। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী লোসি দিখো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কন্থৌজাম গোবিন্দাস সিং এবং একাধিক নাগা বিধায়ক। বৈঠকে ইউএনসি প্রতিনিধি দল অপহৃত ছয় নাগা গ্রামবাসীকে দ্রুত উদ্ধার করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানায়।
এক পুলিশ আধিকারিক জানান, ১৩ মে-র ঘটনার পর কাঙপোকপি ও সেনাপতি জেলায় কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ভুক্ত অন্তত ৫০ জনকে বিভিন্ন গোষ্ঠী আটক করেছিল। প্রশাসন, সমাজনেতা এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে ১৪ ও ১৫ মে প্রায় ৩০ জনকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে, পাহাড়ি জেলাগুলিতে এখনও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ১৩ মে কাঙপোকপি জেলায় তিন কুকি-জো চার্চ নেতার নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং আরও চারজন আহত হওয়ার ঘটনার পর নাগা ও কুকি-জো সম্প্রদায় পৃথকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
কুকি ইনপি মণিপুর (কেআইএম) ১৩ মে মধ্যরাত থেকে সম্পূর্ণ বন্ধের ডাক দেওয়ার পর কুকি-জো অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে, বিশেষত কাঙপোকপি জেলায়, জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কেআইএম কুকি উপজাতি সম্প্রদায়ের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন।



















