গান্ধীনগর, ২৩ মে (আইএএনএস) : গুজরাটে বৃহৎ সমন্বিত সাইবার অপরাধ দমন অভিযানে ১৩ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তারা ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, শেল কোম্পানি এবং একাধিক রাজ্যে বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ৬৩১.৮৬ কোটিরও বেশি টাকার সাইবার জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিল।
দেশজুড়ে বাড়তে থাকা সাইবার অপরাধের প্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকদের নির্দেশে সাইবার সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ‘অপারেশন মিউল হান্ট ২.০’-এর আওতায় এই অভিযান চালায়।
পুলিশ সুপার রাজদীপসিং ঝালা জানান, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও মানব গোয়েন্দা সূত্রের ভিত্তিতে আহমেদাবাদ, সুরাট, ভদোদরা, ভরুচ এবং রাজকোটে একযোগে অভিযান চালানো হয়। গত চার দিনে চারটি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং তাতেই ১৩ জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের সঙ্গে যুক্ত ৪৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যাচাই করে ন্যাশনাল সাইবারক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল (এনসিসিআরপি)-এ দেশজুড়ে ৯৮২টি সাইবার প্রতারণার অভিযোগের সন্ধান মেলে। এর মধ্যে ২০০-রও বেশি এফআইআর বিভিন্ন রাজ্যে নথিভুক্ত হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, ‘সৌরথ ওভারসিজ’ নামে একটি সংস্থার আড়ালে ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণার টাকা ঘোরানো হত। মাধবজি কোটাডিয়া ও বিমল জাডা টেলিগ্রাম চ্যানেল ও অন্যান্য অনলাইন উৎস থেকে চুরি হওয়া ডেটাবেস সংগ্রহ করে ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের তথ্য হাতিয়ে নিত বলে অভিযোগ। এরপর ভুয়ো ক্রেডিট কার্ড অফারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করা হত।
পুলিশ জানায়, বিমল জাডা সামাজিক প্রকৌশল কৌশল ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ওটিপি সংগ্রহ করত এবং পরে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বদলে অবৈধভাবে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করত। এরপর সেই টাকা বিভিন্ন মিউল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হত।
আহমেদাবাদ ও সুরাটভিত্তিক আরেকটি চক্র ‘এসএনবি অ্যাকোয়া শিপিং প্রাইভেট লিমিটেড’, ‘জেপেলিন ওভারসিজ শিপিং প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং ‘ডিকেজি ক্রিয়েশন অ্যান্ড টেকনোলজিস গুজরাট’-এর মতো সংস্থাকে ব্যবহার করে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলত বলে অভিযোগ। কমিশনের বিনিময়ে এই সংস্থাগুলির মাধ্যমে প্রতারণার টাকা পাচার করা হত।
ভদোদরা ও ভরুচে ‘এয়ার কন্ডিশনিং হাব’ এবং ‘ওয়ার্কস গ্লোবাল’-এর নামে খোলা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে জালিয়াতির টাকা লেনদেন করা হত বলেও জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক জেরায় উঠে এসেছে, এই চক্রের সদস্যরা প্রতারণামূলক লেনদেনের জন্য ৪ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন পেত। গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে মিউল অ্যাকাউন্ট হোল্ডার, হ্যান্ডলার এবং অর্থ স্থানান্তরের সমন্বয়কারীরাও রয়েছে।
পুলিশের দাবি, এই চক্র অনলাইন আর্থিক প্রতারণা, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং জালিয়াতি, ইউপিআই স্ক্যাম, বিনিয়োগ প্রতারণা এবং আমানত সংক্রান্ত প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিল। এনসিসিআরপি-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, দিল্লি, রাজস্থান, পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। মোট অভিযোগের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮২। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ২৮টি মোবাইল ফোন, ৩৯টি চেকবই, একটি পাসবই, দুটি ল্যাপটপ, ১২টি এটিএম/ডেবিট কার্ড এবং একাধিক সংস্থার চারটি সিল।
পুলিশ সুপার রাজদীপসিং ঝালা বলেন, তদন্তে একটি সুসংগঠিত সাইবার অপরাধ চক্রের সন্ধান মিলেছে, যারা ভুয়ো সংস্থা ও মিউল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অবৈধ অর্থ গোপন করত। অর্থের গতিপথ ও বাকি জড়িতদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, কোনও অবস্থাতেই ব্যাঙ্কের তথ্য বা ওটিপি অপরিচিত কারও সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া উচিত নয়।



















