নিজস্ব প্রতিনিধি, গন্ডাছড়া, ২৩ মে: দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা গন্ডাছড়া মহকুমা সদরের সাত কিলোমিটার দীর্ঘ সার্কেল রোড ঘিরে তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী। শনিবার রাস্তা পরিদর্শনে গিয়ে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ ও ঘেরাওয়ের মুখে পড়তে হয় পূর্ত দপ্তরের আধিকারিক ও ঠিকাদার সংস্থার প্রতিনিধিদের।
জানা যায়, গন্ডাছড়া মহকুমার ডিডব্লিউএস দপ্তরের পাশ থেকে শুরু হওয়া এই সার্কেল রোডটি ফিসারী অফিসের সীমানা ঘেঁষে নিখিল সরকার পাড়া হয়ে মূল সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণের শুরু থেকেই কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে কয়েক বছরের মধ্যেই রাস্তার অবস্থা সম্পূর্ণ বেহাল হয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে রাস্তা সংস্কারের জন্য পূর্ত দপ্তর থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়। সেই কাজের বরাত পায় বহিঃরাজ্যের একটি সংস্থা ‘রিদ্দিসিদ্ধি’। অভিযোগ, কাজ শুরুর পর সংস্থাটি রাস্তার পুরনো ইট তুলে নিয়ে গেলেও পরবর্তীতে আর কোনো সংস্কার কাজ করেনি। বর্তমানে গোটা রাস্তাজুড়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
সম্প্রতি বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পর শনিবার পূর্ত দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার, এসডিও সহ অন্যান্য আধিকারিক এবং ঠিকাদার সংস্থার প্রতিনিধিরা এলাকা পরিদর্শনে যান। তাদের দেখতে পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন নিখিল সরকার পাড়ার বাসিন্দারা। অল্প সময়ের মধ্যেই শতাধিক মহিলা-পুরুষ আধিকারিকদের ঘেরাও করে রাস্তা সংস্কারে দীর্ঘ বিলম্বের কারণ জানতে চান।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এই রাস্তার উপর নির্ভর করে এলাকার কৃষক, মৎস্যজীবী, মরিচ চাষি ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সকলকে।
বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাস্তা নির্মাণের নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করে লিখিত প্রতিশ্রুতি না দিলে কাউকেই এলাকা ছাড়তে দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কিছু সময় ধরে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা চালান পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।



















