ইম্ফল, ২৩ মে: মণিপুরের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে সেখানে আটকে থাকা ১৩২ জন এনসিসি ক্যাডেটকে শনিবার ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে করে অসমের গুয়াহাটি ও যোরহাটে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক জানান, যুবকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের কথা মাথায় রেখে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে এই জরুরি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ১১ মে থেকে ২০ মে ২০২৬ পর্যন্ত ইম্ফলে আয়োজিত এনসিসি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লাইং ক্যাম্পে অংশ নিয়েছিলেন এই ক্যাডেটরা।
বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মণিপুরে সড়কপথে চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে তাঁদের জরুরি ভিত্তিতে গুয়াহাটি ও যোরহাটে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি জানান, এনসিসি অধিদফতর উত্তর-পূর্বাঞ্চল, এনসিসি-র ডিরেক্টর জেনারেলের সদর দফতর এবং ভারতীয় বায়ু সেনার পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের সমন্বয়ে এই উদ্ধার অভিযান পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
দ্রুত পদক্ষেপের ফলে ক্যাডেটরা নিরাপদে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছতে পেরেছে এবং সময়মতো পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই আধিকারিক। এতে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে।
তিনি আরও বলেন, ক্যাডেটরা তাঁদের প্রতি দেখানো যত্ন, সহায়তা এবং দ্রুত পদক্ষেপের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং ভারতীয় বায়ুসেনার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
এদিকে, এনসিসি ডিরেক্টরেট নর্থ ইস্টার্ন রিজিয়নের এক্স হ্যান্ডেলে জানানো হয়েছে, মণিপুরের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দ্রুত এয়ারলিফট অভিযান চালানোর জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, ভারতীয় বায়ুসেনা এবং এনসিসি ডিরেক্টরেটের প্রতি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ক্যাডেটরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
আরও একটি পোস্টে জানানো হয়, ২০ মে এয়ার উইং এনসিসি ক্যাম্প শেষ হওয়ার পর গুয়াহাটি ও যোরহাটের ক্যাডেটরা সড়কপথে বাড়ি ফিরতে পারেননি।
এরপর ২৩ মে ভারতীয় বায়ুসেনা তিনটি এএন-৩২ বিমান ব্যবহার করে বিশেষ এয়ারলিফট অভিযান চালায়। এর মাধ্যমে ৬০ জন ক্যাডেটকে যোরহাট এবং ৭২ জনকে গুয়াহাটিতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এনসিসি ডিরেক্টরেট জানিয়েছে, বায়ুসেনার এই দ্রুত সহায়তা উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের কাছে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে।


















