জালন্ধর, ২৩ মে (আইএএনএস) : পাঞ্জাবের সানটেক সিটি রিয়েল এস্টেট প্রকল্পে জমির ব্যবহার পরিবর্তনের (সিএলইউ) অনুমতি জাল নথির মাধ্যমে আদায়ের অভিযোগে এক সমবায় গৃহনির্মাণ সংস্থার সম্পাদককে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম অজয় সেহগল। তিনি ইন্ডিয়ান কো-অপারেটিভ হাউস বিল্ডিং সোসাইটির সম্পাদক। শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
এই তদন্ত শুরু হয় পাঞ্জাব পুলিশের দায়ের করা একটি এফআইআরের ভিত্তিতে। কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেছিলেন যে, তাঁদের সম্মতি না নিয়েই জাল স্বাক্ষর ও বুড়ো আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে জমির ব্যবহার পরিবর্তনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
ইডি-র তদন্তে উঠে এসেছে, অজয় সেহগল সমবায় সংস্থার মাধ্যমে ১৫ জন জমির মালিকের ৩০.৫ একর জমি সংক্রান্ত ভুয়ো সম্মতিপত্র তৈরি করেছিলেন। অভিযোগ, ওই জাল নথির ভিত্তিতেই ‘সানটেক সিটি’ নামে বৃহৎ আবাসন প্রকল্পের জন্য সিএলইউ অনুমোদন আদায় করা হয়।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জমির মালিকদের জাল স্বাক্ষর ও বুড়ো আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে সরকারি অনুমতি সংগ্রহ করা হয়েছিল।
ইডি আরও জানিয়েছে, গত ৭ মে ইন্ডিয়ান কো-অপারেটিভ হাউস বিল্ডিং সোসাইটি এবং এবিএস টাউনশিপ প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে যুক্ত আটটি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির সময় এক লিয়াজোঁ ব্যবসায়ী নীতিন গোয়েলের বাড়ির বারান্দা থেকে ২১ লক্ষ টাকা নিচে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়া সেই টাকা উদ্ধার করে ইডি আধিকারিকরা।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, অজয় সেহগল শুধু আবাসিক প্লট নয়, ‘লা ক্যানেলা’ আবাসন প্রকল্প এবং ‘ডিস্ট্রিক্ট ৭’ বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ, এই প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রেও জাল সম্মতিপত্র ব্যবহার করে সিএলইউ অনুমতি নেওয়া হয়েছিল।
ইডি-র দাবি, রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটি (রেরা)-র যথাযথ অনুমোদন ও নথিভুক্তি পাওয়ার আগেই প্রকল্পগুলির ইউনিট বিক্রি করা হচ্ছিল। এই ধরনের অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে ২০০ কোটিরও বেশি টাকার বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ।
এছাড়াও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির জন্য নির্ধারিত প্লট এখনও পর্যন্ত জিএমএডিএ-র এস্টেট অফিসারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি বলেও জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
ইডি জানিয়েছে, পাঞ্জাব রিজিওনাল অ্যান্ড টাউন প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট আইনের ধারা ৯০ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে মাত্র ৩০ একর জমির আংশিক সিএলইউ বাতিল করা হয়েছিল।
এই ঘটনায় টাউন অ্যান্ড কান্ট্রি প্ল্যানিং দফতর এবং গ্রেটার মোহালি এরিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (জিএমএডিএ)-র কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিকের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ইডি সূত্রে ইঙ্গিত, এই মামলায় আরও গ্রেফতারি হতে পারে এবং তদন্তের জাল উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের দিকেও পৌঁছাতে পারে, যাঁরা অভিযুক্তদের বেআইনি সুবিধা পাইয়ে দিতে সাহায্য করেছিলেন বলে অভিযোগ।
।।।।



















