পাটনা, ২৪ এপ্রিল(আইএএনএস): বিহার বিধানসভায় আস্থা ভোটের বিতর্কে বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব তীব্র আক্রমণ শানালেন সম্রাট চৌধুরী নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের কোষাগার প্রায় শূন্য এবং আর্থিক পরিস্থিতি চরম সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে।
তেজস্বী যাদব দাবি করেন, বিহারের ওপর প্রায় ৪ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা চাপেছে। তাঁর কথায়, এই পরিস্থিতিতে উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন তো দূরের কথা, পেনশন প্রদানের মতো মৌলিক দায়িত্বও সঠিকভাবে পালন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
রাজনৈতিকভাবে শাসক জোটকে নিশানা করে তিনি নীতীশ কুমার-এর প্রচারিত স্লোগান “২০২৫ সে ৩০, ফির সে নীতীশ”–কে বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, বিজেপি আগে থেকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ ঘোষণা না করায় রাজ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
তেজস্বী আরও বলেন, গত পাঁচ বছরে পাঁচবার সরকার বদল হওয়ায় বিহার এখন “রাজনৈতিক পরীক্ষাগার”-এ পরিণত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেও এনডিএ স্থিতিশীল শাসন দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
ব্যক্তিগত কটাক্ষও করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে কটাক্ষের সুরে বলেন, নিজের পাগড়ি সামলে রাখতে, ইঙ্গিত দেন জোটের ভিতরে ভাঙনের সম্ভাবনার দিকে।
এছাড়াও তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের অনেক নেতা আদতে বিজেপির “মূল” সদস্য নন, বরং অন্য দল থেকে আসা। এতে জোটের মধ্যে মতভেদ বাড়ছে বলেও তাঁর অভিযোগ।
তিনি উদাহরণ হিসেবে বিজয় কুমার সিনহা, বিজয় কুমার চৌধুরী ও বিজেন্দ্র প্রসাদ যাদবের নাম উল্লেখ করে বলেন, তাঁদের রাজনৈতিক অতীত ভিন্ন দলের সঙ্গে যুক্ত। তেজস্বীর বক্তব্য, এতে আদর্শগত অসঙ্গতি এবং রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানিতা স্পষ্ট।
শেষে “লালু স্কুল অফ পলিটিক্স” মন্তব্য করে তিনি পরোক্ষভাবে-এর প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন, দাবি করেন বর্তমান নেতৃত্বের রাজনীতিতে সেই ছাপ এখনও রয়ে গেছে।



















