লখনউ, ৯ জুন (আইএএনএস): উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে শামলির ধর্মান্তরকরণ বিতর্ককে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছে বিজেপি, কারণ তাদের কাছে প্রকৃত নির্বাচনী ইস্যুর অভাব রয়েছে বলে মঙ্গলবার অভিযোগ করল কংগ্রেস।
আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কংগ্রেস মুখপাত্র সুরেন্দ্র রাজপুত বলেন, “ভারতীয় জনতা পার্টির শাসনকালে নানা ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ ঘটছে। যদি দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কোনও জোরজবরদস্তি, প্রলোভন বা চাপ ছাড়াই স্বেচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তন করে থাকেন, তাহলে তাতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। তবে যদি ধর্মান্তরকরণ জবরদস্তি, লোভ বা প্ররোচনার মাধ্যমে হয়ে থাকে, তাহলে পুলিশ অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাধারণ আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানযোগ্য একটি বিষয়কে বিজেপি রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করছে।
রাজপুত বলেন, “বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, বিজেপির কাছে ভোটে লড়ার মতো কোনও বাস্তব ইস্যু নেই। তাই তারা রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য নতুন ইস্যু খুঁজছে। এ ধরনের বিষয় থানাস্তরেই মিটে যেতে পারে, কিন্তু তারা এটিকে জাতীয় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। এই কৌশল আর কাজ করবে না।”
তিনি আরও বলেন, উত্তরপ্রদেশে বেকারত্ব, মহিলাদের কল্যাণ, কৃষকদের সমস্যা এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের জবাবদিহি করতে হবে।
এদিকে, উত্তরপ্রদেশের শামলির ধর্মান্তরকরণ মামলায় নতুন মোড় এসেছে। পুলিশ এক মহিলা ও তাঁর বাবাকে গ্রেফতার করেছে। তবে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তি দাবি করেছেন, তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং এর পেছনে কোনও জোরজবরদস্তি ছিল না।
পুলিশ চাঁদনি কুরেশি এবং তাঁর বাবা ইসলাম কুরেশিকে গ্রেফতার করেছে। ব্যবসায়ী দেবরাজ মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে আরও নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দেবরাজের দাবি, তাঁর ছেলে আয়ুষ মালিককে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে প্ররোচিত করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চাঁদনি আয়ুষের ফিজিওথেরাপিস্ট এবং জিম প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। পরে তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আয়ুষকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে জাল নথির মাধ্যমে নিকাহ সম্পন্ন করা হয়। দেবরাজ মালিকের দাবি, কয়েক বছর আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাঁর ছেলেকে ধর্মান্তরিত করা হয়েছিল।
তবে আয়ুষ মালিক এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। আইএএনএস-কে তিনি বলেন, “আমি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি। কেউ আমাকে বাধ্য করেনি। আমার বিরুদ্ধে এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হচ্ছে। আমাকে আবার হিন্দুধর্মে ফিরে যেতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। আমার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে জেলে রয়েছেন।”
বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
























