মঙ্গলুরু, ৯ জুন (আইএএনএস): কর্নাটকের মঙ্গলুরুতে এক চাঞ্চল্যকর তোলাবাজির মামলায় যুব কংগ্রেসের এক পদাধিকারী এবং তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, এক ব্যবসায়ীকে ব্যক্তিগত আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে প্রায় দু’বছর ধরে ব্ল্যাকমেল করে মোট ২.৭৭ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম নিজাম এবং জিতেশ। নিজাম মঙ্গলুরু যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বলে দাবি করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, দু’জনে মিলে এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীকে টার্গেট করে এই তোলাবাজির চক্র চালাতেন।
পুলিশের দাবি, ২০২৪ সালে প্রথমে জিতেশের সঙ্গে ওই ব্যবসায়ীর পরিচয় হয়। পরে তিনি ব্যবসায়ীকে ফাঁদে ফেলে তাঁর ব্যক্তিগত আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও স্ত্রীকে দেখিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। প্রথমে ৩৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। সামাজিক সম্মানহানির ভয়ে ব্যবসায়ী চেকের মাধ্যমে সেই টাকা পরিশোধ করেন বলে অভিযোগ।
তদন্তে জানা গিয়েছে, পরে ব্ল্যাকমেলের চাপ বাড়তে থাকায় ব্যবসায়ী সাহায্যের জন্য নিজামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু অভিযোগ, সাহায্য করার পরিবর্তে নিজামও জিতেশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তোলাবাজির চক্রে যুক্ত হয়ে পড়েন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ব্যবসায়ীর উপর চাপ বাড়াতে অভিযুক্তরা একটি ভুয়ো আত্মহত্যার গল্পও তৈরি করে। অভিযোগ, ২০২৪ সালের মে মাসে নিজাম ব্যবসায়ীকে জানান যে জিতেশ আত্মহত্যা করেছেন এবং একটি সুইসাইড নোটে ব্যবসায়ীর নাম পাওয়া গিয়েছে।
এই দাবি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে জিতেশের মৃত্যু ও শেষকৃত্যের ভুয়ো ছবি ব্যবসায়ীর কাছে পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ। একই সঙ্গে তাঁকে একটি ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
আইনি জটিলতা ও সামাজিক অপমানের আশঙ্কায় ব্যবসায়ী নিয়মিত টাকা দিতে থাকেন। পুলিশের দাবি, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে মোট ২.৭৭ কোটি টাকা আদায় করা হয়।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার মোড় ঘোরে ২০২৬ সালের জুন মাসে। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী হঠাৎ মঙ্গলুরুতে জিতেশকে জীবিত অবস্থায় দেখতে পান। যাঁকে তিনি মৃত বলে বিশ্বাস করেছিলেন, তাঁকে সামনে দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান এবং এরপর উরভা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নিজাম ও জিতেশ— উভয়কেই গ্রেফতার করেছে। এই তোলাবাজি চক্রে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে নিজামের গ্রেফতারের পর সামাজিক মাধ্যমে কর্নাটক ও মঙ্গলুরুর বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তাঁর একাধিক ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। তা ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
























