সাব্রুম, ১০ জুন: দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম পোস্ট অফিস সংলগ্ন সাতচাঁদ ও রুপাইছড়ি বিদ্যালয় পরিদর্শক কার্যালয়ে কর্মীদের উপস্থিতি ও দাপ্তরিক শৃঙ্খলা নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে অফিস পরিচালনা না হওয়া এবং কর্মচারীদের অনিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় মহলের একাংশ।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা অনুসরণ না করে কিছু কর্মচারী নিজেদের সুবিধামতো অফিসে আসা-যাওয়া করছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাতচাঁদ বিদ্যালয় পরিদর্শক কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইরনজয় রিয়াংকে প্রায়শই অফিসে অনুপস্থিত দেখা যায়। যদিও তাঁর পক্ষ থেকে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক কার্যালয়, শিক্ষা গবেষণা পর্ষদের বৈঠক এবং বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শনের কাজে ব্যস্ত থাকার কথা জানানো হয়ে থাকে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
বুধবার বিকেলে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা সাতচাঁদ ডেপুটি বিদ্যালয় পরিদর্শক ড্যানিয়েল রিয়াংয়ের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি অভিযোগগুলি অস্বীকার করার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়। তবে একই কার্যালয়ের কর্মচারী মানিক চক্রবর্তী ক্যামেরার সামনে স্বীকার করেন যে কয়েকজন কর্মচারী নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিস ত্যাগ করেন।
অন্যদিকে, একই ভবনে অবস্থিত রুপাইছড়ি বিদ্যালয় পরিদর্শক কার্যালয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ক্যাশ সেকশনের এক কর্মী নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিস কক্ষ বন্ধ করে চলে যান। এছাড়া একাধিক কর্মচারীর দীর্ঘদিন অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে। উপস্থিতি খাতাতেও তার প্রতিফলন রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আরও অভিযোগ, কিছু কর্মচারী দাপ্তরিক কাজে জেলা কার্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে অফিস থেকে বের হলেও সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে তাদের উপস্থিতির তথ্য মেলেনি। এ নিয়ে কার্যালয়ের ভেতরেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
রুপাইছড়ি ডেপুটি বিদ্যালয় পরিদর্শক নন্দলাল দাসও কিছু কর্মচারীর অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, শিক্ষা দপ্তর যদি বিষয়টির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে, তাহলে বিদ্যালয় পরিদর্শক কার্যালয়গুলির প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে। তবে অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, উত্থাপিত অভিযোগগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।



















