দ্রাস (লাদাখ), ২৬ জুলাই (আইএএনএস): কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে লাদাখের দ্রাসে কার্গিল যুদ্ধ স্মারকে শহিদ জওয়ানদের শ্রদ্ধা জানিয়ে আবেগঘন ভাষণ দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে দেশের জন্য আত্মবলিদানকারী বীর সেনাদের ত্যাগের মূল্য কখনও ভোলা সম্ভব নয়। একইসঙ্গে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ভারত যখন উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে, তখন পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকেই রাষ্ট্রনীতির অংশ করে তুলেছে।
কার্গিল যুদ্ধ স্মারকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, “এই স্মারকের উপরে যে তেরঙ্গা পতাকা গর্বের সঙ্গে উড়ছে, তার সম্মান ও গৌরবের জন্য বিরাট মূল্য দিতে হয়েছে। ঠিক ২৭ বছর আগে পাকিস্তান প্রতারণার মাধ্যমে শীতকালে খালি থাকা পাহাড়চূড়াগুলি দখল করেছিল। কিন্তু তারা ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহস ও অদম্য মনোবলের শক্তি বুঝতে পারেনি। আমাদের জওয়ানরা শুধু পাহাড়ের চূড়াই জয় করেননি, মানবসীমার সব সংজ্ঞাকেও অতিক্রম করেছিলেন।”
তিনি বলেন, কার্গিল যুদ্ধ শুধু ভারতের সামরিক বা কৌশলগত বিজয় নয়, বরং গোটা বিশ্বের সামনে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্বের এক উজ্জ্বল নজির।
আবেগঘন কণ্ঠে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “এই বিজয়ের মূল্য দিয়েছেন ৫০০-রও বেশি বীর সন্তান। যখন তাঁদের মরদেহ জাতীয় পতাকায় মোড়ানো অবস্থায় বাড়িতে পৌঁছেছিল, তখন সেই দৃশ্য কেউ ভুলতে পারবে না। কেউ সদ্য বিবাহিত অবস্থায় সিঁদুর হারিয়েছেন, কেউ ছেলের অপেক্ষায় থেকে চোখের আলো হারিয়েছেন, আবার এমন সন্তানও রয়েছে যারা বাবাকে শুধু ছবিতেই দেখেছে। সেই বীরদের বয়স ছিল মাত্র ২২, ২৪ কিংবা ২৬ বছর। তাঁদের সামনে গোটা জীবন পড়ে ছিল, হাজারো স্বপ্ন ছিল। কিন্তু দেশের ডাকে তাঁরা এক মুহূর্ত দ্বিধা না করে সব স্বপ্ন উৎসর্গ করেছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, আজও মায়েরা সন্তানদের বীরত্বের গল্প শোনাতে গিয়ে ক্যাপ্টেন মনোজ পাণ্ডে, ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রা-সহ অসংখ্য কার্গিল বীরের কথা বলেন। তাঁদের আত্মত্যাগ আগামী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
পরে পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে রাজনাথ সিং বলেন, “আজ ভারত নতুন উদ্ভাবনের পথ খুঁজছে, আর পাকিস্তান নতুন অনুপ্রবেশের পথ খুঁজছে। ভারত চিপ ডিজাইন করছে, পাকিস্তান সন্ত্রাস ডিজাইন করছে। ভারত স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছে, আর পাকিস্তান তৈরি করছে সন্ত্রাসের ইকোসিস্টেম। ভারত সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করছে, পাকিস্তান তৈরি করছে আত্মঘাতী জঙ্গি। ভারত মহাকাশ অভিযানের জন্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে, আর পাকিস্তান প্রক্সি মিশনে ব্যস্ত।”
তিনি আরও বলেন, “ভারত বিশ্বের জন্য সফটওয়্যার তৈরি করছে, আর পাকিস্তান রপ্তানি করছে ‘স্লিপার সেল’। ভারত ডেটা সেন্টার নির্মাণ করছে, পাকিস্তান গড়ে তুলছে মৌলবাদ ছড়ানোর কেন্দ্র। ভারত ইউপিআইয়ের মাধ্যমে বিশ্বকে সংযুক্ত করছে, আর পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে ‘হাওয়ালা’ চক্রের সঙ্গে যুক্ত করছে।”
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ টেনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, এই অভিযানের মাধ্যমে ভারত শুধু জঙ্গিদের নয়, তাদের মদতদাতাদেরও এমন শিক্ষা দিয়েছে, যা তারা সারাজীবন ভুলবে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে ভারতকে ভয় দেখানোর যে কোনও চেষ্টা কঠোর জবাব পাবে।”
পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নে রাজনাথ সিংয়ের স্পষ্ট বক্তব্য, “পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও বিস্তৃত আলোচনা হবে না। যদি কখনও আলোচনা হয়, তা হবে শুধুমাত্র পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) নিয়ে, যা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং পাকিস্তান অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।”
























