জয়পুর, ৯ জুন (আইএএনএস): রাজস্থানের জয়পুরে একটি বাজি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক শিশুসহ অন্তত চার জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন আরও চার জন। মঙ্গলবার সকালে খোহ নাগোরিয়ান এলাকার আয়েশা নগর তালাইয়ে আইটিআই কলেজের কাছে অবস্থিত কারখানাটিতে আগুন লাগে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে দমকল ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং ভেতরে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।
মৃতদের মধ্যে একজনের পরিচয় জানা গেছে। তিনি হলেন আবদুল ওয়াহিদ। বাকি তিন জনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
আহতদের নাম নাসির খান (২৩), সমীর খান (৩০), বিলাল (৩০) এবং আদিব (২৫)। তাঁদের জয়পুরের এসএমএস হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, চার জনের অবস্থাই সংকটজনক।
হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জন ডা. আর. কে. জৈন জানান, সমীর ও নাসিরের শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। বিলালের ৭৫ শতাংশ এবং আদিবের ৬৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
জয়পুরের জেলা শাসক সন্দেশ নায়েক বলেন, কারখানায় মজুত থাকা অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ থেকেই আগুন লাগার প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে। বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য মজুত রাখা বিপুল পরিমাণ বাজি আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে ‘কোহিনুর’ নামাঙ্কিত পোড়া প্যাকেটও উদ্ধার হয়েছে।
উদ্ধারকাজ চলাকালীন কারখানার ভিতরে থাকা একটি এলপিজি সিলিন্ডার সরিয়ে নেওয়া হয়, ফলে আরও বড় বিস্ফোরণ ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
প্রশাসনের অনুমান, আগুন লাগার সময় কারখানার ভিতরে আট থেকে দশ জন উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হাশিম আনসারি, যিনি উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছিলেন, বলেন, “আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। জলের ট্যাঙ্কার আনা হয়েছিল। পাইপ নিয়ে ভিতরে ঢুকে তিন-চার জনকে উদ্ধার করি। তাঁদের অ্যাম্বুল্যান্সে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু আগুন এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে বাকিদের আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কিশনপোলের বিধায়ক আমিন কাগজি প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে একটি আবাসিক এলাকায় বাজি ও বারুদ মজুতের কারখানা চলছিল।
তিনি বলেন, “পুলিশ কি জানত না যে আবাসিক এলাকায় বারুদের গুদাম চলছে? স্থানীয় বাসিন্দাদের চুপ করিয়ে রাখতে কারা চাপ সৃষ্টি করছে? এখনও পর্যন্ত এই কারখানার প্রকৃত মালিক কে, তারও স্পষ্ট উত্তর নেই।”
হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, কারখানাটি বেআইনিভাবে পরিচালিত হচ্ছিল এবং এর পিছনে যোগসাজশ থাকতে পারে।
ঘটনার পরপরই জয়পুরের পুলিশ কমিশনার শচীন মিত্তাল এবং ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (পূর্ব) রঞ্জিত শর্মা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আগুন লাগার কারণ এবং কারখানাটির বৈধতা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী কিরোদি লাল মীনা ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থার নির্দেশও দিয়েছেন।
এদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট এবং বিরোধী দলনেতা টিকরাম জুলাই-ও ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে প্রশাসন তদন্ত করছে কারখানাটির প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছিল কি না। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের নেপথ্যের কারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
























