আগরতলা, ১০ জুন: রাজ্যের উচ্চশিক্ষা পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ, নতুন কলেজগুলির অধিভুক্তিকরণ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করলেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মণ। তিনি নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করে।
জানা গেছে, বৈঠকে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত নতুন সরকারি সাধারণ ডিগ্রি কলেজগুলিকে মহারাজা বীর বিক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অধিভুক্ত করার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। কলেজগুলির একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে।
এছাড়াও, বিদ্যমান নির্দেশিকা ও আইনগত বিধান অনুযায়ী রাজ্য উচ্চশিক্ষা পরিষদের চেয়ারম্যান নিয়োগের জন্য গঠিত সার্চ কমিটিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের একজন প্রতিনিধিকে মনোনয়নের আবেদন জানায় রাজ্য সরকার।
বৈঠকে সরকারি ডিগ্রি কলেজগুলিতে দক্ষতা ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে ভারতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান (আইআইটি) খড়্গপুরের সহযোগিতায় বিভিন্ন স্কিল ও ভোকেশনাল কোর্স চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি) ২০২০-এর আলোকে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।
ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু একাডেমিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার জন্য নিয়মিত উপাচার্যের উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। জবাবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান আশ্বাস দেন যে, নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
প্রতিনিধি দল রাজ্যের দুটি নতুন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চারটি নতুন সাধারণ ডিগ্রি কলেজের উন্নয়নের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তারও দাবি জানায়। এই প্রতিষ্ঠানগুলির অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং একাডেমিক সম্প্রসারণে কেন্দ্রীয় সহায়তা চাওয়া হয়।
বৈঠকে ধর্মেন্দ্র প্রধান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান দক্ষতার ঘাটতি চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি ত্রিপুরার অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন কোর্স চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন তিনি। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার প্রসার এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে উচ্চশিক্ষায় ৫০ শতাংশ গ্রস এনরোলমেন্ট রেশিও (জিইআর) অর্জনের লক্ষ্য পূরণেও জোর দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
এছাড়া ত্রিপুরার উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এই কমিটি ভবিষ্যতে কোর্সের চাহিদা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করে একটি ভিশন ডকুমেন্ট ও রোডম্যাপ প্রস্তুত করবে।
উপজাতি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রতি আরও বেশি উৎসাহিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী।
বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেন যে, রাজ্যের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সমস্ত বিষয় গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।


















