নয়াদিল্লি, ২৫ জুলাই (আইএএনএস): স্টার্ট-আপ ভিলেজ এন্টারপ্রেনারশিপ প্রোগ্রাম (এসভিইপি)-এর আওতায় চলতি বছরের জুন মাসের শেষ পর্যন্ত দেশের গ্রামীণ এলাকায় ৪.৩২ লক্ষ ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে তুলতে সহায়তা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের ফলে উদ্যোক্তাদের লাভ, আয় এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে শনিবার জানিয়েছে কেন্দ্র সরকার।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসভিইপি-র আওতায় থাকা উদ্যোক্তাদের প্রায় ৮৬ শতাংশই তফসিলি জাতি (এসসি), তফসিলি উপজাতি (এসটি), সংখ্যালঘু এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) অন্তর্গত। অসম, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ এবং মধ্যপ্রদেশে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সর্বাধিক সংখ্যক উদ্যোগকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য গ্রামীণ জীবিকা মিশনের (এসআরএলএম) মাধ্যমে পরিচালিত এই কর্মসূচিতে কৃষি-বহির্ভূত ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলিকে প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা, পরামর্শ এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
স্বনির্ভর গোষ্ঠী (এসএইচজি), কমিউনিটি রিসোর্স পার্সন-এন্টারপ্রাইজ প্রোমোশন (সিআরপি-ইপি), ব্যাঙ্ক সংযোগ এবং প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার মতো বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এসভিইপি-র পরিসর আরও বিস্তৃত হয়েছে। সরকারের দাবি, দারিদ্র্য হ্রাস, স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে এই কর্মসূচি একটি কার্যকর মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
সরকার জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসভিইপি-র সম্প্রসারণের জন্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে মোট ৯৪২.০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০১৬ সালে প্রকল্প চালুর পর থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত যে ১১২.৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, তার তুলনায় এই বরাদ্দ প্রায় ৭৩৮ শতাংশ বেশি।
প্রতি ব্লকের জন্য ৬.৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের বিধান রয়েছে এবং প্রতিটি উদ্যোগে গড় বিনিয়োগের পরিমাণ ২৭,০৮৩ টাকা। সরকারের মতে, শক্তিশালী সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা পেলে গ্রামীণ উদ্যোক্তারা অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারেন।
বিশেষ করে মহিলা, এসসি-এসটি সম্প্রদায় এবং প্রথম প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে এই প্রকল্প স্থানীয় মানুষের স্বপ্নকে টেকসই উদ্যোগে রূপান্তরিত করছে। এর ফলে আয় বৃদ্ধি, সঞ্চয় বাড়ানো এবং পরিবারের সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিআরপি-ইপি-দের রাজ্য গ্রামীণ জীবিকা মিশন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলি যৌথভাবে পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ ও শংসাপত্র প্রদানের মাধ্যমে নির্বাচন করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যাঁদের ব্যবসা পরিচালনা ও প্রাথমিক গণিতের দক্ষতা রয়েছে।
এছাড়া, অন্তত ৯০ শতাংশ সিআরপি-ইপি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর পরিবার থেকে নির্বাচিত হন এবং তাঁদের মধ্যে ন্যূনতম ৬০ শতাংশই মহিলা। প্রত্যেক সিআরপি-ইপি সর্বাধিক ৫০টি উদ্যোগকে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ এবং ঋণ পেতে সহায়তা প্রদান করেন।



















