গুয়াহাটি, ২৫ জুলাই (আইএএনএস): অসমে চলতি বন্যা মূলত নদীর স্বাভাবিক প্লাবনের কারণে নয়, বরং স্বাভাবিকের তুলনায় ৪০০ শতাংশেরও বেশি অতিবৃষ্টির জেরেই এই বিপর্যয় নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। শনিবার তিনি বলেন, বন্যায় ইতিমধ্যেই ২,০০০-রও বেশি গ্রামের প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলার জেলাশাসক ও শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এবারের বন্যার ব্যাপ্তি নজিরবিহীন। এটি স্বাভাবিক নদীভাঙন বা প্লাবনের ঘটনা নয়, বরং ৪০০ শতাংশেরও বেশি অতিবৃষ্টির ফলে এত বড় বিপর্যয় হয়েছে।”
পরিস্থিতিকে “ভয়াবহ” আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ তদারকির জন্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে মন্ত্রীদের পাঠানো হয়েছে। আগামী দু’তিন দিনের মধ্যে তিনি নিজেও সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করবেন।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, বর্তমানে রাজ্যের ১৬২টি ত্রাণ শিবিরে ৪১ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ইতিমধ্যে ১৪ হাজার কুইন্টালের বেশি চাল, ২ হাজার কুইন্টাল ডাল, ৫৮,৮২০ লিটার সর্ষের তেল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এই ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ আরও জোরদার করতে জেলা প্রশাসনগুলিকে ১১১ কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রয়োজনে আরও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, রাজ্যের একাধিক নদীর জল এখনও বিপদসীমার উপরে বা তার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ দফতরের মোবাইল মেডিক্যাল দল মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে দুর্গত মানুষ ও গবাদি পশুর মধ্যে কোনও সংক্রামক রোগ না ছড়ায় এবং দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া যায়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া গ্রামগুলিতে পৌঁছনো এবং আকাশপথে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনী ও ভারতীয় বায়ুসেনার সঙ্গে আলোচনা করবেন।
তিনি আরও জানান, খুব শীঘ্রই কেন্দ্রের একটি প্রতিনিধি দল অসমে এসে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের মূল্যায়নকারী দল একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য আপলোডের কাজ শুরু করবে।
শেষে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, কেন্দ্রের সহযোগিতায় অসম এই সংকট কাটিয়ে উঠবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।



















