কলকাতা, ২৩ এপ্রিল (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দুই দফার এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ে সকাল থেকেই ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।
ভোট শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগেই একাধিক কেন্দ্রে ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা যায়। এবারে ভোটারদের জন্য দু’স্তরের যাচাই প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে—প্রথমে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা পরীক্ষার পর ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ, এরপর বুথ-স্তরের আধিকারিক (বিএলও)-এর মাধ্যমে দ্বিতীয় যাচাইয়ের পর ভোটকক্ষে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে শুরুতেই কিছু জায়গায় ইভিএম বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে। পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে একটি বুথে ব্যাটারি সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ে মক পোলিং শুরু করা যায়নি। একইভাবে দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি এবং মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের কিছু বুথেও মক পোলিংয়ে বিলম্বের অভিযোগ ওঠে।
প্রথম দফায় যে ১৬টি জেলায় ভোট হচ্ছে, সেগুলি হল— কোচবিহার, দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা (উত্তরবঙ্গ) এবং মুর্শিদাবাদ, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম (দক্ষিণবঙ্গ)।
নিরাপত্তার কারণে এই ১৬টির মধ্যে সাতটি জেলা নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে। এবারের ভোটে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স, ইন্ডিয়া রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন এবং অন্যান্য রাজ্যের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। এর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের বাহিনীও রয়েছে।
সব ভোটকেন্দ্রে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
এদিন ভোট উপলক্ষে বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি নাগরিকদের গণতন্ত্রের এই উৎসবে উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বিশেষ করে যুব সমাজ ও মহিলাদের বেশি করে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন।
নির্বাচন কমিশনের তরফে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল, বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত এবং পুলিশ পর্যবেক্ষক এন. কে. মিশ্র আগের রাতেই দফতরে থেকে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তদারকি করেছেন, যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।
রাজ্যের বাকি ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল এবং ভোটগণনা ৪ মে অনুষ্ঠিত হবে।



















