শিব মন্দিরে ধর্মপ্রাণ মানুষের উপচে পড়া ভীড়

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৯ ফব্রুয়ারী৷৷ দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনা করার সর্বশ্রেষ্ঠ দিন মহা শিবরাত্রি৷ শিবরাত্রি হল সনাতন ধর্মের উৎসব৷  শীতের শেষের দিকে এবং গ্রীষ্মের আগমনের আগে অমাবস্যার আগের রাত থেকে মহা শিবরাত্রি হিসেবে পালন করা হয়৷ মহা শিবরাত্রি হল হিন্দু দেবতা শিবকে উৎসর্গ করা একটি বার্ষিক উৎসব এবং হিন্দু ধর্মের – শৈব ধর্মের ঐতিহ্য , এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ৷ তিথি অনুসারে শনিবার সন্ধ্যা ছটা সাত মিনিট থেকে শুরু হয়েছে মহা শিবরাত্রি৷ রবিবার তিনটে চল্লিশ মিনিট পর্যন্ত মহা শিবরাত্রি থাকবে৷ মহা শিবরাত্রিকে কেন্দ্র করে শনিবারের পর রবিবার ও ভক্তরা ভিড় সমান রাজধানীর বিভিন্ন শিব মন্দির গুলিতে৷ বিশেষ করে মহিলারা শামিল হচ্ছেন এই পুজোতে৷ পরিবারের মঙ্গলার্থে বা সমাজের মঙ্গল কামনায় সমস্ত ভক্তরা উপোস থেকে শিবের মাথায় জল , দুধ,  মধু ঢেলে আসছেন৷ শিবরাত্রিকে কেন্দ্র করে ভক্তের সমাগম রবিবার পরিলক্ষিত হয়৷ অন্যদিকে বটতলা স্থিত মহাদেব মন্দিরেও পুজো দিতে সকাল থেকেই ভক্তদের ভীড় পরিলক্ষিত হয়৷ সকলে সুশৃঙ্খল ভাবে শিবের মাথায় জল ঢেলে পুজো দিয়ে মঙ্গলকামনা করেন৷
শিবা চতুর্দশী উপলক্ষে শনিবার সকাল থেকেই আগরতলা শহরসহ রাজ্যের সর্বত্র শিব মন্দিরগুলিতে মা বোনদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়৷ মনোবাসনা পূর্ণ করার প্রত্যাশায় শিবের আরাধ্যায় উঠেছেন ধর্মপ্রাণ মানুষ৷ বাঙালির বারো মাসেই তেরো পাবন৷ এই তেরো পার্বণের অন্যতম পার্বণ মহা শিবরাত্রি৷ ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয় মহা শিবরাত্রি৷ শিব পুরাণ অনুসারে, শিবরাত্রির দিন শিব সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়ের মহা তাণ্ডব নৃত্য করেছিলেন ও এই দিনেই দেবাদিদেব মহাদেব ও মাতা পার্বতী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল৷ তাই মহা সমারোহের সঙ্গে পালিত হয় এই মহা শিবরাত্রির ব্রত৷
ত্রিপুরার বিভিন্ন শিব মন্দির গুলিতে শিব ভক্তদের ভিড় লক্ষ্য করা যায় এই দিনটিতে৷ নিষ্ঠাভরে পুজো দিতে দেখা যায় ৮ থেকে ৮০ সকলকেই৷  শনিবার সকাল থেকেই ভক্তদের ভিড় ছিল মন্দিরে৷  বহু পুণ্যার্থীরা  মন্দিরে ছুটে আসেন মহা শিবরাত্রির পুজো উপলক্ষে৷ হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ হিন্দুধর্মীয় উৎসব৷ মহাশিবরাত্রি হল হিন্দুধর্মের সবর্োচ্চ আরাধ্য দেবাদিদেব মহাদেব ‘শিবের মহা রাত্রি’৷ এই মহাশিবরাত্রি ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয়৷ ইতিহাস অনুসারে, শিবরাত্রি মাসের সবচেয়ে অন্ধকার রাত৷তবে বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বাস করে যে শিবরাত্রি মানে শিব এবং শক্তির বিবাহ উদযাপন করা৷শিব এবং পার্বতী উভয়ই প্রেম, শক্তি এবং ঐক্যের প্রতীক৷শিব চতুর্দশীর রাত্রিতে উপমহাদেশের লক্ষ লক্ষ নারী পুরুষ নির্বিশেষে শিবের মাথায় দুধ, ডাবের জল ঢেলে এবং ফুল ও বেলপাতা দিয়ে শিবের পূজা করেন৷ বিভিন্ন জায়গাতে মহাশিবরাত্রি খুব ধুমধাম করে পালন করা হয়৷ শিবলিঙ্গ হচ্ছে শিবের প্রতীক৷ শিব হলো হিন্দু সমাজের প্রধান এবং আদি দেবতা৷ এজন্যই বলা হয় দেবাদিদেব মহাদেব৷ রামায়ণ যুগেরও আগে, বিভিন্ন কারণে যেখানে শিবের জটিল মূর্তি তৈরি করে পূজা করা সম্ভব হয়নি, সেখানে অপেক্ষাকৃত নির্মাণ পদ্ধতি সহজ বলে শিবের প্রতীক হিসেবে শিবলিঙ্গের পূজার প্রচলন হয়৷ আধুনিক পাশ্চাত্য প্রভাবও তা খুব একটা কমাতে পারেনি৷ ভারতীয় সংসৃকতিতে সত্যমশিবমসুন্দর এই তিনটি শব্দের মধ্যেই শিব শব্দের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেখা যায়৷ শিব ও সত্য পরস্পর এক ও অভিন্ন৷ তাই শিবপূজায় সত্য জীবন যাপনের জন্য সংকল্প করতে হয়৷ ঐ সত্যনিষ্ঠা মন বাক্য ও আচরণে সর্বদা যত্ন সহকারে পালন করা হলেই পরম সুন্দর শিব-চেতনায় মনটা ভরে ওঠে৷