আগরতলা, ১০ ফেব্রুয়ারি(হি. স.) : ভোটে সন্ত্রাস এবং নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হওয়ার আতঙ্কে ভুগছে সিপিএম। কারণ, মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের মেজাজ দেখছেন তাঁরা। তাই, আজ মুখ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে ত্রিপুরায় অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের দাবি জানাতে যাবেন দলের প্রতিনিধিরা।
আজ সাংবাদিক সম্মেলনে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি এবং রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচনে অসম ও গুজরাট পুলিশের বদলে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীকে ব্যবহারের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁরা বিজেপি শাসিত দুই রাজ্যের পুলিশকে ত্রিপুরায় নির্বাচনের দায়িত্বে ব্যবহারের জন্য নির্বাচনের কমিশনের ভূমিকায় সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
এদিন সীতারাম বলেন, ত্রিপুরা আজ বিজেপির অপশাসন থেকে মুক্তি চাইছে। কারণ, গত পাঁচ বছরে মানুষের জীবন-জীবিকায় মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। তাঁর দাবি, ভোটে জিততে বিজেপি অর্থ ও পেশি শক্তির ব্যবহার করছে। তাতে, আইন-শৃংখলার পরিস্থিতি ভীষণ সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। তাঁর কথায়, মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের মেজাজ দেখা যাচ্ছে। ফলে, কোন দলকে সমর্থন তা প্রাধান্য পাচ্ছে না।
তিনি বলেন, শান্তি ফিরিয়ে এনে আইনের শাসনের প্রতিষ্ঠায় মানুষ মনস্ত করেছেন। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে অবাধ ও সুষ্ঠ ভোট সুনিশ্চিত করতে হবে।
তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর ঘাটতি রয়েছে, এই যুক্তি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, মাত্র তিনটি রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচন হচ্ছে। তাতে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা অবশ্যই সম্ভব।
তাঁর সাফ কথা, অবাধ ও সুষ্ঠ ভোটের দাবিতে আজ সিপিএমের প্রতিনিধিরা দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সাথে দেখা করবেন। তাঁর দাবি, বিজেপিকে হারাতে সমস্ত অসাম্প্রদায়িক দল একজোট হয়েছে। ফলে, নির্বাচনের রায় নির্ণায়ক হবেই। মানুষ এবার ত্রিপুরায় বৈকল্পিক সরকারের প্রতিষ্ঠা করবেনই। তাঁর কথায়, বিজেপি বিরোধী ভোট বিভাজিত না হোক, আমরা সেই চেষ্টাই করছি।
এদিন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, ত্রিপুরায় নির্বাচনে মানুষ দুইভাগে বিভক্ত হয়ে রয়েছেন। এক শ্রেণী বিজেপির পক্ষে অন্য শ্রেণী ধর্ম নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক শক্তির দিকে রয়েছেন। তাঁর দাবি, ২০১৮ সালে দেওয়া বিজেপির প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। বরং, নতুন করে ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনে তাঁরা সংকল্প ঘোষণা করেছে। তিনি জোর গলায় বলেন, আবারও বিজেপি সংকল্প পত্রে মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ডালি সাজিয়ে দিয়েছে। তাতে, পুণরায় ত্রিপুরার মানুষ বিভ্রান্ত ও হতাশ হবেন।
আজ জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, আমাদের নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা রয়েছে। কমিশন চাইলেই নির্বাচনে জিরো পোল ভায়োলেন্স সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে আরও কঠোর মনোভাব গ্রহণ করতে হবে। তিনি জানান, বিজেপির বিরুদ্ধে তিপরা মথা-কে পাশে রাখার অনেক চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু, এই মুহুর্তে তা সম্ভব হয়নি। তবে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর পরিস্থিতি কি দাঁড়াবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়।

