নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ সেপ্ঢেম্বর৷৷ গত কদিন ধরে রাজধানী আগরতলা শহর সহ রাজ্যের বিভিন্ন মহকুমায় সিপিএম পার্টি অফিসে হামলা, ভাঙচুর, অগ্ণি সংযোগের ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানী আগরতলা শহরে মিছিল সংগঠিত করেছে সিপিএম৷ এই মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন দলের রাজ্য কমিটির নেতৃত্বরা৷ বামফ্রন্টের আহ্বায়ক বিজন ধর থেকে শুরু করে প্রাক্তন মন্ত্রী মানিক দে, প্রাক্তন মন্ত্রী রতন ভৌমিক, বিধানসভার প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ পবীত্র কর, প্রাক্তন বিধায়ক রতন দাস সহ দলের প্রবীণ নেতৃত্বরা৷
দুপুরে কঠোর পুলিশ প্রহরার মধ্য দিয়ে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করেছে৷ যদিও এই মিছিলকে কেন্দ্র করে শহরের প্যারাডাইস চৌমুহনী এলাকায় কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে৷ পুলিশ অবশ্য তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সফল হয়েছে৷ মিছিলে রাজ্যের শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে তিব্র আক্রমণ করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী মানিক দে৷ তিনি অভিযোগ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে শাসক দলের দুসৃকতিরী পার্টি অফিসগুলিতে হামলা হুজ্জুতি চালাচ্ছে৷ ভাঙচুর করা হচ্ছে নেতাদের বাড়ি ঘরে৷ এমনকি অগ্ণিসংযোগের ঘটনাও ঘটানো হচ্ছে৷
মানিক দে আরও বলেন, এইভাবে চলতে দেয়া যায় না৷ জনগণ সাড়ে তিন বছরে বিজেপি আইপিএফটি জোট সরকারের কাজকর্মে বিতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছে৷ অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে তারা রাস্তায় নামছেন৷ জনগণের কাছ থেকে জোট সরকার দূরে সরে যাচ্ছে৷ মানুষের সামনে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি সেগুলি ভাওতাবাজিতে পরিণত হয়েছে৷ এই অবস্থায় মানুষের পিঠ দেয়ালে লেগে গিয়েছে৷ তাই এখন প্রতিবাদী হয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন৷ আর সেটা বিজেপি সহ্য করতে না পেরে বিরোধী দলের কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা হুজ্জুতি চালিয়ে যাচ্ছে৷
মানিক দে অভিযোগ করেছেন, মানুষের কন্ঠকে রোধ করা সম্ভব হবে না৷ যত বেশী আক্রমণ সংগঠিত করা হবে মানুষ ততই প্রতিবাদী হয়ে উঠবে৷ তিনি অভিযোগ করেছেন যেখানে যেখানে হামলা চালানো হচ্ছে সেখানে পুলিশ প্রশাসন দলদাসের ভূমিকা পালন করছে৷ ঘটনা ঘটার আশঙ্কার কথা সিপিএমের তরফ থেকে আগে থেকেই পুলিশকে জানানো হচ্ছে৷ কিন্তু, পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না৷ ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর পুলিশ গিয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছে৷ অপরাধীদের পাকড়াও করা হচ্ছে না বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী মানিক দে৷

