News Flash

  • Home
  • Uncategorized
  • রাজ্যে কৃষি বিপ্লবের মুখোশ খুলে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, তিন গুণ অর্থ বরাদ্দ দিলেও কৃষিতে উন্নয়নে সন্দেহ প্রকাশ রাধামোহনের
Image

রাজ্যে কৃষি বিপ্লবের মুখোশ খুলে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, তিন গুণ অর্থ বরাদ্দ দিলেও কৃষিতে উন্নয়নে সন্দেহ প্রকাশ রাধামোহনের

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৯ মার্চ৷৷ কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রীকে রাজ্যে পেয়ে সঠিকভাবে অর্থ বরাদ্দ হলে তবেই কৃষি ও মৎস্য

রবিবার লেম্বুছড়াস্থিত কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে পর্যালোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী রাধামোহন সিং৷ ছবি নিজস্ব৷

ক্ষেত্রে আরো উন্নয়ন সম্ভব বলে খোঁচা দেন মৎস্য মন্ত্রী খগেন্দ্র জমাতিয়া৷ কিন্তু এর পাল্টা দিতে কোন কসুর রাখেননি কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী রাধা মোহন সিং৷ তিনি রাজ্যের কৃষি বিপ্লবের মুখোশ টেনে খুলে দেন এবং প্রশ্ণ করেন, তিন গুণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে রাজ্যকে, কিন্তু কৃষিতে তিন গুণ উন্নয়ন কোথায়৷ তাই তিনি রাজ্যকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, সময় মতো বরাদ্দ অর্থ খরচ করুন এবং হিসেব দিন৷ কারণ, হিসেব না দিলে অর্থ বরাদ্দ হবে না, স্পষ্ট জানিয়ে দেন কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী৷

রবিবার লেম্বুছড়াস্থিত কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে পর্যালোচনা বৈঠকে কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী বলেন, কৃষি রাজ্যের বিষয়৷ ফলে, এর কল্যাণে রাজ্যকেই ভাবতে হবে৷ রাজ্যের মৎস্য মন্ত্রীর সঠিকভাবে অর্থ বরাদ্দের দাবি প্রসঙ্গে এদিন তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরে রাজ্য সরকারকে বুঝিয়ে দেন হিসেব দিয়ে তবেই আরো অর্থ চাইতে হবে৷ কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী জানান, আগে কেন্দ্রীয় করে রাজ্যের অংশীদারিত্ব যা ছিল, তা এখন অনেক গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে৷ নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে ৫ বছরে কেন্দ্রীয় করের অংশ হিসেবে রাজ্য পেয়েছে ৭৬৪৬ কোটি টাকা৷ কিন্তু, নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এক বছরের মধ্যে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২৩৬৯৫ কোটি টাকা৷ কৃষি ক্ষেত্রে ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে রাজ্যের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল ১৬৬৭ কোটি টাকা৷ সে জায়গায় ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে রাজ্যকে দেওয়া হয়েছে ৩৪২৬ কোটি টাকা৷ তাঁর বক্তব্য, তিন গুণ অর্থ বৃদ্ধি করা হয়েছে৷ তাহলে তিন গুণ উন্নতিও দেখা যাওয়া উচিৎ৷ সেক্ষত্রে উন্নয়নের মূল্যায়ণ রাজ্য সরকারকে নয়, মানুষকে করতে হবে, দাবি তাঁর৷

এদিন মনে হয়েছে কৃষি মন্ত্রী প্রস্তুত হয়েই এসেছিলেন, তাই রাজ্য সরকারের কৃষি বিপ্লবের মুখোশ টেনে খুলে ফেলেন তিনি৷ কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী বলেন, রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ৭৩ শতাংশ গ্রামে বসবাস করেন৷ গ্রামীণ ও শহর এলাকা মিলিয়ে মোট ২৪ শতাংশ কৃষি জমি রয়েছে এরাজ্যে৷ কিন্তু, সেই কৃষি জমির মাত্র ৪২ শতাংশ সেচের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে, উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি৷ জাতীয় গড় ৫৫ শতাংশের সাথে তুলনা টেনে এনে তিনি প্রশ্ণ করেন, স্বাধীনতার ৭০ বছর পরও সমস্ত কৃষি জমিতে জল পৌছায়নি, তাহলে কৃষি এবং কৃষক কল্যাণ কিভাবে সম্ভব৷

এদিন তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সেচ যোজনায় ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে রাজ্যকে ২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল৷ তাতে ৪৪৪ হেক্টর জমিতে সেচ সম্ভব৷ কিন্তু, সেই বরাদ্দ অর্থের ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট এখনো পাওয়া যায়নি৷ তাঁর সাফ কথা, বরাদ্দ অর্থের খরচের হিসেব না দিলে কোন টাকা পাওয়া যাবে না৷ আর তাতে রাজ্যের এবং কৃষকেরই ক্ষতি হবে, মনে করেন তিনি৷

কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মাটি সুস্থ হওয়া অত্যন্ত জরুরী৷ সেই কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী বলেন, মাটির রোগ নির্ণয়ে সারা দেশের ১৪ কোটি কৃষকদের সয়েল হেলথ্ কার্ড দেওয়া হচ্ছে৷ মার্চের মধ্যে এই কর্মসূচী সমাপ্ত হবে৷ কিন্তু তিনি আশংকা প্রকাশ করে জানান, এরাজ্যে মাটির চিন্তা সেভাবে করা হচ্ছে না৷ রাজ্যের ১ লক্ষ ৭৮ হাজার কৃষকের মধ্যে মাত্র ৪২ শতাংশের হাতে সয়েল হেলথ্ কার্ড পৌছেছে৷ তিনি রাজ্য সরকারকে সমস্ত কৃষকদের সয়েল হেলথ্ কার্ড পাওয়ার বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে বলেন৷

এদিন তিনি রাজ্যকে বরাদ্দ অর্থের আরো তথ্য তুলে ধরে জানান, সয়েল হেলথ্ ম্যানেজমেন্টের অন্তর্গত আধুনিক মোবাইল ল্যাব মাটি পরীক্ষার জন্য, দুইটি মাটি পরীক্ষা কেন্দ্র, ১০০টি পরীক্ষার কিট ও ৩২ জন দক্ষ কর্মচারী নিয়োগ ও প্রশিক্ষনের জন্য ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৩ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু, এই বরাদ্দ অর্থের মাত্র ৭৮ লক্ষ টাকা খরচ করতে পেরেছে রাজ্য৷ তিনি আরও জানান, জৈব চাষে আগে কোন প্রকল্প ছিল না৷ এখন এই প্রকল্পের অন্তর্গত ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৩৫৬ কোটি টাকা এবং ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৩৩২ কোটি টাকা রাজ্যকে দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু, এক্ষেত্রেও রাজ্য ১৯৪ কোটি টাকা এখন পর্যন্ত খরচ করতে ব্যর্থ৷

এদিন তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে আরো জানান, অধিক দুগ্দ উৎপাদনের জন্য গকুল মিশন চালু করা হলেও, রাজ্যের কাছ থেকে এবিষয়ে এখনো কোন প্রস্তাব মিলেনি৷ দেশের ১৪টি রাজ্যকে এই মিশনের অন্তর্গত মঞ্জুরি দেওয়া হয়েছে৷ দেশের মোট ২৭টি রাজ্যের ৩৫টি প্রজেক্টের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে৷ তিনি আরো জানান, জাতীয় ডেয়ারী বিকাশে রাজ্যকে বরাদ্দ অর্থের ৭০-৮০ লক্ষ টাকা এখনো খরচ হয়নি৷

এদিকে, প্রযুক্তি নির্ভর মৎস্য উৎপাদনে বৃদ্ধি সম্ভব এই দাবি করে কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী সেন্ট্রালি স্পনসর্ড স্কিমের অন্তর্গত বিগত বছরগুলিতে রাজ্যের প্রাপ্ত অর্থের খতিয়ান তুলে ধরেন৷ তিনি জানান, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ৪ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ১ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ১১ লক্ষ টাকা এবং ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ১ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু, এবছর তা বাড়িয়ে বরাদ্দ করা হয়েছে ৮ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা৷ এই তথ্য তুলে ধরে তিনি রাজ্য সরকারকে মৎস্য চাষে প্রযুক্তির ব্যবহার তৃণমূলস্তর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব মনে করিয়ে দেন৷ পাশাপাশি নির্দেশ দিয়ে বলেন, প্রত্যেক জেলায় ও ব্লকে কৃষি আধিকারীক এবং পঞ্চায়েতে কৃষক বন্ধু থাকতে হবে৷ এর জন্য কেন্দ্র অর্থ বরাদ্দ করছে, ফলে এই ব্যবস্থা না থাকার কোন কারণ নেই বলেই তিনি মনে করেন৷

এদিন তিনি বলেন, এতদিন রাজ্যে ৪ জেলায় মাত্র ৪টি কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র খোলা সম্ভব হয়েছে৷ কিন্তু, আরো তিনটি কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র খোলার তিনি অনুমোদন দিয়েছেন এবং চতুর্থটি খোলার জন্য আগামী কয়েকদিনের মধ্যে অনুমোদন দেবেন৷

Releated Posts

অক্সিলিয়াম গার্লস স্কুলে ‘আউক্সি ইগনিট এনোএল এক্সিবিশন ২০২৬’, ছাত্রীদের সৃজনশীলতা ও প্রতিভার প্রকাশ

আগরতলা, ২৫ জুলাই: ছাত্রীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশের লক্ষ্যে অক্সিলিয়াম গার্লস স্কুল, আগরতলার উদ্যোগে বিদ্যালয়…

ByByNews Desk Jul 25, 2026

রোমানিয়ায় ভারতীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রসারে প্রবাসীদের ভূয়সী প্রশংসা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর

বুখারেস্ট, ২৫ জুলাই (আইএএনএস): ভারত ও রোমানিয়ার জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি…

ByByNews Desk Jul 25, 2026

ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা যুবসমাজ, সন্তানহারা পরিবার ও ঐক্যবদ্ধ বিরোধীদের জয়: মল্লিকার্জুন খাড়গে

নয়াদিল্লি, ২৫ জুলাই (আইএএনএস): কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে শনিবার দাবি করেছেন, এটি…

ByByNews Desk Jul 25, 2026

সমীক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে নেতাজিকে অবমাননার অভিযোগ, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি ফরওয়ার্ড ব্লকের

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৯ জুলাই:পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি সমীক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ…

ByByReshmi Debnath Jul 20, 2026
Scroll to Top