আগরতলা, ১ সেপ্টেম্বর: জাতীয় ড্রাইভার দিবস উপলক্ষে মজদুর মনিটরিং সেল অনুমোদিত ‘অল ড্রাইভার ও সহচালক অ্যাসোসিয়েশন’-এর উদ্যোগে আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে মোটর শ্রমিকদের নিয়ে এক সাংগঠনিক কনভেনশনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক-সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃত্ব ও সদস্যরা।
কনভেনশন সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রতিমা ভৌমিক বলেন, রাষ্ট্র নির্মাণ ও দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার ক্ষেত্রে চালকদের ভূমিকা অপরিসীম। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য পরিবহণ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে নিরাপদে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে দেওয়া—প্রতিটি ক্ষেত্রেই চালকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি বলেন, “রাষ্ট্র নির্মাণের কাজে উদ্যোক্তা, শ্রমিক, কৃষক, যুবক-সহ সমাজের প্রতিটি অংশের মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা রয়েছে। সেই জায়গায় আমাদের ড্রাইভার ভাইদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রতিমা ভৌমিক আরও বলেন, বড় বড় নির্মাণকাজের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়। একইভাবে কর্মক্ষেত্র, স্কুল, হাসপাতাল কিংবা অন্য কোনও গন্তব্যে মানুষকে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও চালকরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
যোগাযোগ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হলেন ড্রাইভাররা। তাঁরা রয়েছেন বলেই আমরা আমাদের গন্তব্যে পৌঁছতে পারছি এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে। তাঁদের উপরই অনেকাংশে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নির্ভরশীল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জাতীয় ড্রাইভার দিবসে প্রতিটি চালক ও তাঁদের পরিবারের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা কামনা করেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি চালকদের বিভিন্ন সমস্যা ও তাঁদের পরিবারের সমস্যাগুলির প্রতি সমাজ ও প্রশাসনের আরও সংবেদনশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
চালকদের পক্ষ থেকে রাস্তার বেহাল অবস্থা, অসুস্থ হলে চিকিৎসা ও সহায়তার ব্যবস্থা-সহ বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার বিষয়ও কনভেনশনে তুলে ধরা হয়। এ প্রসঙ্গে প্রতিমা ভৌমিক বলেন, চালকরাও সমাজেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং তাঁদের সমস্যাগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “আমরা অনেক সময় চালকদের ছোট করে দেখার চেষ্টা করি। কিন্তু তাঁরা আছেন বলেই আমরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছতে পারছি। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে দিয়ে তাঁরা আমাদের জীবনযাত্রাকে সচল রাখছেন।”
জাতীয় ড্রাইভার দিবসের এই কর্মসূচির মাধ্যমে চালক ও সহচালকদের বিভিন্ন সমস্যা, তাঁদের সামাজিক সুরক্ষা এবং পেশাগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়।






















