নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই (আইএএনএস): যন্তর মন্তরে চলা ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিতে দিল্লি পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর দাবি সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে শুক্রবার জানাল দিল্লি পুলিশ।
সামাজিক মাধ্যমে যাচাই না করা তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়ে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওতে নিজেকে সাব-ইন্সপেক্টর পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
দিল্লি পুলিশের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে এক ব্যক্তি নিজেকে দিল্লি পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর দাবি করে জানিয়েছেন যে, তিনি সম্প্রতি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে চলমান আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। এই দাবি সম্পূর্ণ অসত্য।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দিল্লি পুলিশের নথিপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, ভিডিওতে উল্লেখ করা পরিচয়ের সঙ্গে মিলে এমন কোনও সাব-ইন্সপেক্টর নেই। ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর, মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্ক করে জানানো হয়েছে, যারা এই ধরনের ভুয়ো তথ্য তৈরি, প্রচার বা ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত থাকবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষকে শুধুমাত্র দিল্লি পুলিশের সরকারি সূত্র থেকে প্রকাশিত তথ্যের ওপর নির্ভর করার এবং যাচাই না করা কোনও দাবি শেয়ার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ আরও জানিয়েছে, ভাইরাল ভিডিওতে দেখা ব্যক্তি দিল্লি পুলিশের কোনও সদস্য নন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তাঁর পরিচয় সংক্রান্ত সমস্ত দাবি ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।
এদিকে, পৃথক এক ঘটনায় দিল্লি পুলিশ অভিযোগ করেছে, ভারতে চলমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পাকিস্তান সামাজিক মাধ্যমে পরিকল্পিত ভুয়ো তথ্য প্রচারের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় পুলিশের এক আধিকারিক জানান, বিদেশ-সমর্থিত একাধিক সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট বিভাজনমূলক ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়াতে সক্রিয় রয়েছে।
তিনি জানান, গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ৪০০-রও বেশি পাকিস্তানভিত্তিক সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করেছে, যেগুলি ধারাবাহিকভাবে ভুয়ো তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছে। এই অ্যাকাউন্টগুলিকে ব্লক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে অনেক অ্যাকাউন্ট ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও সক্রিয় ছিল, যা একই ধরনের হস্তক্ষেপের ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দেয়।
ওই আধিকারিকের দাবি, ভারতের বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে অশান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, এই অ্যাকাউন্টগুলি বিকৃত ভিডিও, যাচাইবিহীন দাবি এবং উসকানিমূলক পোস্টের মাধ্যমে সংবেদনশীল বিষয়কে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য অশান্তি সৃষ্টি করা, বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এই ধরনের অ্যাকাউন্টগুলির নাগাল সীমিত করতে এবং বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম থেকে সেগুলিকে ব্লক করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।























