নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই (আইএএনএস): লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সিজেপি (ককরোচ জনতা পার্টি)-র ব্যানারে হওয়া ছাত্র আন্দোলনে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে “মিথ্যা বলার” অভিযোগ তুলেছেন।
পেলেটে আহত বলে দাবি করা ছাত্র সাহিলকে পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির সময় পুলিশের অভিযানে সাহিল গুরুতর আহত হন। তাঁর দাবি, শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন দমন করতেই পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছিল।
সাংবাদিকদের সামনে সাহিলের শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে রাহুল বলেন, এটি ছাত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের “প্রত্যক্ষ প্রমাণ”। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ঘটনার প্রকৃত তথ্য প্রকাশের দাবি জানান। রাহুল বলেন, সরকার বারবার বলছে যে পেলেট ছোড়া হয়নি। কিন্তু এই ঘটনাই তার প্রমাণ। এ সময় তিনি সাহিলের মুখ, ডান হাত এবং শরীরের উপরের অংশে থাকা বলে দাবি করা পেলেটের আঘাতের চিহ্ন দেখান। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯ বছর বয়সী সাহিল সোমবারের বিক্ষোভে পেলেটের আঘাতে আহত হন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তাঁর ডান চোখেও গুরুতর আঘাত লাগে বলে দাবি করা হয়েছে।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, জাতীয় পতাকা হাতে নিজের অধিকার দাবিতে আন্দোলন করার সময় সাহিলের ওপর পেলেট ছোড়া হয়। তিনি বলেন, আমার ভাই জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে ছিল। পেলেট তার ডান চোখে লাগে। সে এখন সেই চোখে দেখতে পাচ্ছে না এবং দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলন দমনের চেষ্টা সত্ত্বেও ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ তাদের লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি।
পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগকে ঘিরে ইতোমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স-এর সদস্যরা পেলেট ব্যবহার করেছিলেন। এ বিষয়ে বাহিনীর তরফে অভিযোগ যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাহুল গান্ধী ছাত্রদের এবং বিরোধী জোটের দাবিগুলিও পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ, ছাত্রদের ওপর হামলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া। তিনি বলেন, এসব দাবি থেকে তারা সরে আসবেন না।
ছাত্রদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাহুল বলেন, তারা নিজেদের ন্যায্য দাবিতে রাস্তায় নেমেছে, কিন্তু সরকার তাদের প্রতি “সংবেদনহীন ও অসহিষ্ণু” আচরণ করছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে রাহুল বলেন, যিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁকে অপসারণ করা উচিত। ধর্মেন্দ্র প্রধান একজন অপরাধী শিক্ষামন্ত্রী। তাঁকে পদ ছাড়তেই হবে।


















