নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের কাছে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে হওয়া ধর্না নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়ো মোটো) হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের একদল আইনজীবী। তাঁরা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে চিঠি লিখে ২১ জুলাইয়ের ঘটনায় তথ্যভিত্তিক তদন্তের নির্দেশ এবং উচ্চ-নিরাপত্তা এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে অভিন্ন নির্দেশিকা প্রণয়নের আবেদন করেছেন।
অ্যাডভোকেট সংকেত গুপ্তের সমন্বয়ে বিভিন্ন হাইকোর্টের আইনজীবীদের স্বাক্ষরিত ওই আবেদনে বলা হয়েছে, ৭, লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে হওয়া এই ধর্না সাধারণ রাজনৈতিক প্রতিবাদের সীমা ছাড়িয়ে জাতীয় নিরাপত্তা এবং সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে।
আবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, একাধিক সাংসদ এবং কেরল ও কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রীরা পূর্বানুমতি বা প্রশাসনকে আগাম না জানিয়েই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সংলগ্ন এলাকায় ধর্নায় বসেছিলেন।
আইনজীবীদের মতে, ওই এলাকা রাজধানীর অন্যতম স্পর্শকাতর উচ্চ-নিরাপত্তা অঞ্চল। ফলে সেখানে অনুমতি ছাড়া যে কোনও জমায়েত সাধারণ বিক্ষোভের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, দিল্লি পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা বারবার আন্দোলনকারীদের সরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে এলাকাটির নিরাপত্তাজনিত গুরুত্বের কথা বললেও বিক্ষোভকারীরা ধর্না চালিয়ে যান।
আইনজীবীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ব্যক্তিগতভাবে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দিয়ে ধর্না প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও কয়েক ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ চলতে থাকে।
আবেদনে রাহুল গান্ধীর সামাজিক মাধ্যমে করা একটি পোস্টেরও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তিনি সাধারণ মানুষকে ধর্নায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। আইনজীবীদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে জনসমাবেশের আহ্বান নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুতর ও পূর্বানুমেয় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, কারণ সেখানে কত মানুষ এবং কী উদ্দেশ্যে জমায়েত হবেন, তা আগে থেকে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
আবেদনকারীদের দাবি, প্রায় তিন ঘণ্টা পর দিল্লি পুলিশ রাহুল গান্ধী-সহ অন্য সাংসদদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। তাঁদের বক্তব্য, বিরোধী দলনেতার মতো একজন সাংবিধানিক পদাধিকারীকে এভাবে সরাতে হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এই অচলাবস্থার সময় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার পরিণতি মারাত্মক হতে পারত।
আইনজীবীরা আবেদনে উল্লেখ করেছেন, সংবিধানের ১৯(১)(খ) অনুচ্ছেদে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার অধিকার স্বীকৃত হলেও, ১৯(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনশৃঙ্খলা, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার স্বার্থে এই অধিকারের উপর যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে।
তাঁদের মতে, উচ্চ-নিরাপত্তা এলাকায় যথাযথ পর্যালোচনা ছাড়া এ ধরনের বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে একটি অনভিপ্রেত নজির তৈরি করবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য দীর্ঘমেয়াদে হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
এই প্রেক্ষিতে আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টকে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টির শুনানি গ্রহণ, তথ্যভিত্তিক তদন্তের নির্দেশ এবং উচ্চ-নিরাপত্তা এলাকায় বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য অভিন্ন নির্দেশিকা তৈরির আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই নির্দেশিকায় একদিকে যেমন সাংবিধানিক প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা করতে হবে, তেমনই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থও নিশ্চিত করতে হবে।
সূত্র: আইএএনএস



















