নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই (আইএএনএস): পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভিডিও বার্তার পরও অসন্তোষ প্রকাশ করল বিরোধী শিবির। বিরোধী নেতাদের দাবি, প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রশ্নফাঁস মামলায় দোষীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দেন।
এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস সাংসদ পি. চিদম্বরম বলেন, “ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গড়ে কী হবে? বিভিন্ন বিষয়ে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত রয়েছে, কিন্তু পর্যাপ্ত বিচারক নেই। বিচারক নিয়োগ না করে শুধু আদালতের ঘোষণা করলেই হবে না। আদালত মানে শুধু ভবন নয়, বিচারক, কোর্ট মাস্টার এবং কর্মীও দরকার। এগুলো কবে হবে?”
কংগ্রেস সাংসদ মনোজ কুমার বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যদি এত দীর্ঘ ভিডিও বার্তা দিয়ে ন্যায়বিচারের কথা বলেন, তাহলে স্পষ্ট করে জানানো উচিত ধর্মেন্দ্র প্রধান কবে পদত্যাগ করবেন। পরীক্ষায় অনিয়মের জন্য তিনিই দায়ী। ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা তাঁর ক্ষেত্রেও কবে প্রযোজ্য হবে?”
কংগ্রেস সাংসদ জেবি ম্যাথারও বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনও আশ্বাস গ্রহণযোগ্য নয়।
সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অবধেশ প্রসাদও প্রশ্ন তোলেন, এনডিএ নেতৃত্ব এখনও কেন ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চায়নি? তাঁর কথায়, “প্রধানমন্ত্রী আগে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিশ্চিত করুন, তারপর ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলুন।”
কংগ্রেস সাংসদ মল্লু রবি বলেন, “ছাত্রছাত্রী, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব এবং গোটা বিরোধী শিবিরের একটাই দাবি—সরকারি জবাবদিহির অংশ হিসেবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। প্রধানমন্ত্রী সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছেন।”
কংগ্রেস সাংসদ সুখদেও ভগতের অভিযোগ, সমস্যার সমাধান না করে ছাত্রদের উদ্দেশে শুধু ‘আকর্ষণীয় ভাষণ’ দেওয়া হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কীর্তি আজাদ প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, “যে উৎসাহ নিয়ে প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বা বিদেশ থেকে কালো টাকা ফেরানোর কথা বলা হয়েছিল, এই আশ্বাসকেও আমি সেই একই দৃষ্টিতে দেখছি। যদি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়, তাহলে ২০২৪ সালের নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনাতেই তা দেখা উচিত ছিল।”
তৃণমূল কংগ্রেসের আরেক সাংসদ সৌগত রায়ও বলেন, “আমাদের দাবি একটাই—ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।”
অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ মদন রাঠৌর প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সরকার ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ করেছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী এমন একটি আইন আনার কথা বলেছেন, যা মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ইউপিএসসি-র মতো স্বচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা পরিচালনা এবং ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁস রোধে সহায়ক হবে।
সূত্র: আইএএনএস



















