ওয়াশিংটন, ২৪ জুলাই (আইএএনএস): প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডর (আইএমইসি)-এর পক্ষে জোরালো দ্বিদলীয় সমর্থন জানালেন মার্কিন আইনপ্রণেতা ও নীতি বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এই করিডর ভারত ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহণের সময় অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে দিতে পারে এবং এটি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর একটি কৌশলগত বিকল্প হিসেবে উঠে আসতে পারে।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বিদেশ বিষয়ক কমিটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক উপকমিটির এক শুনানিতে আইএমইসি-কে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত।
মিসগাভ ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটির নির্বাহী পরিচালক এবং হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের ভিজিটিং ফেলো অ্যাশার ফ্রেডম্যান বলেন, “আইএমইসি এই প্রজন্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্প হয়ে উঠতে পারে। এর মাধ্যমে ভারত থেকে ইউরোপে পণ্য পরিবহণের সময় প্রায় ৫১ শতাংশ কমবে। পাশাপাশি এটি জ্বালানি ও ডিজিটাল পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং চীনের বিআরআই-এর বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলবে।”
তিনি মার্কিন কংগ্রেসকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশন এবং বাণিজ্য দফতরকে দিয়ে আইএমইসি-র অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে সমীক্ষা করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিনিয়োগ, লাভজনক প্রকল্প এবং শুল্ক ব্যবস্থার সমন্বয় নিয়ে একটি কার্যকর রূপরেখা তৈরিরও পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, আইএমইসি-র অগ্রগতি তদারকির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে একটি স্থায়ী সচিবালয় এবং নেতাদের ফোরাম গঠন করা উচিত।
শুনানিতে উপস্থিত ইজরায়েলে প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল শাপিরো বলেন, আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের পর আইএমইসি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক উদ্যোগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে বারবার বিঘ্নের ঘটনা বিকল্প বাণিজ্য ও জ্বালানি করিডরের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উপকমিটির চেয়ারম্যান মাইক ললর আইএমইসি থেকে ইজরায়েলকে বাদ দেওয়ার সম্ভাব্য প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, প্রকল্পটির মূল কাঠামোই আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল এবং সৌদি আরব ও গ্রিসের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে ইজরায়েল একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ বিষয়ে তিনি মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে চিঠিও লিখেছেন বলে জানান।
ইজরায়েলে প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রিডম্যান বলেন, আইএমইসি-র মতো সংযোগ প্রকল্প মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর মতে, অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানোই দীর্ঘমেয়াদে শান্তির ভিত্তি গড়ে তোলে।
তবে অ্যাশার ফ্রেডম্যান স্বীকার করেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এখনও কিছু রাজনৈতিক বাধা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে সৌদি আরব ইজরায়েলগামী পণ্য তার ভূখণ্ড দিয়ে পরিবহণের অনুমতি দেয় না। তবে বৈশ্বিক লজিস্টিকস হাব হওয়ার সৌদি আরবের লক্ষ্য ভবিষ্যতে এই বাধা দূর করতে সহায়ক হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি সৌদি আরব ও ইজরায়েলের মধ্যে নতুন রেলপথ নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তারও প্রস্তাব দেন।
ভারতের কাছে আইএমইসি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সংযোগ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই করিডর চালু হলে ইউরোপে পণ্য পরিবহণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, সরবরাহ শৃঙ্খল আরও বৈচিত্র্যময় হবে এবং পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি এটি ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত অংশীদারিত্বেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এবং চীনের বিআরআই-এর নিয়মভিত্তিক বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: আইএএনএস



















