মুম্বই, ১০ জুলাই (আইএএনএস) : পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (পিসিএমসি)-এ স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য সামগ্রী কেনাকাটায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত। শুক্রবার তিনি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসের কাছে অবিলম্বে তদন্ত ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
গত ৯ জুলাই মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা এক চিঠিতে রাউত অভিযোগ করেন, রাজ্যের এক প্রবীণ মন্ত্রিসভার সদস্য এবং পিসিএমসির একাধিক আধিকারিক বাধ্যতামূলক ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া এড়িয়ে এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে এই ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।
চিঠিতে রাউত জানান, পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের কয়েকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তাঁর সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ করেন যে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, সোয়েটার, মোজা, রেইনকোট এবং স্কুল ব্যাগ কেনার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে।
রাউতের দাবি, রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ৩ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের যে কোনও সরকারি ক্রয় বাধ্যতামূলকভাবে ই-টেন্ডারের মাধ্যমে করতে হয়। কিন্তু কোনও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান না করেই সোলাপুরের ‘জগদম্বা রেডিমেড ড্রেসেস সহকারী সংস্থা’-কে বহু কোটি টাকার বরাত দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি এর আগে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়েছিল এবং আদালত স্কুল কিটের প্রতিটি ইউনিটের ক্রয়মূল্য সর্বোচ্চ ২৩৯ টাকা নির্ধারণ করেছিল। অথচ পিসিএমসি প্রশাসন প্রতি ইউনিটের জন্য ৮১৪ টাকা দরে বরাত দিয়েছে। এর ফলে প্রতিটি কিটে ৫৭৫ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে, যার বোঝা বহন করতে হয়েছে করদাতাদের। তাঁর দাবি, এই অনিয়মের মোট অঙ্ক প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।
সঞ্জয় রাউত সরাসরি অভিযোগ করেন, রাজ্যের এক প্রবীণ মন্ত্রী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোনও টেন্ডার ছাড়াই ওই সংস্থাকে বেআইনিভাবে বরাত পাইয়ে দিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান—‘না খাব, না খেতে দেব’—উল্লেখ করে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
রাউতের আরও অভিযোগ, জনস্বার্থ নয়, আর্থিক কমিশনের লোভ থেকেই এই চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং এই চুক্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কাছে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা কমিশন পৌঁছেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শিশুদের জন্য স্কুল সামগ্রী কেনাকাটায় দুর্নীতিকে তিনি “অত্যন্ত লজ্জাজনক” বলে অভিহিত করেন।
চিঠির শেষে তিনি মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসকে অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়ে অভিযুক্ত মন্ত্রী এবং পিসিএমসি প্রশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, অভিযোগের সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথিপত্র মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
























