গুয়াহাটি, ২২ জুন (আইএএনএস): অসমে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য এখন বিশ্বের নানা প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমশ স্বীকৃতি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেন, রাজ্যের অনন্য পণ্যগুলি শুধু বিদেশি বাজারে জায়গা করে নিচ্ছে না, বরং বিশ্বজুড়ে অসমের পরিচিতিকেও আরও শক্তিশালী করছে।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “অসমে তৈরি, বিশ্বজুড়ে উপভোগ করা হচ্ছে।” তিনি উল্লেখ করেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই রাজ্যের পণ্যের প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে আগ্রহ ও চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, অসমের স্বতন্ত্র কৃষিজ এবং ঐতিহ্যবাহী পণ্য এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছাচ্ছে এবং রাজ্যের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করছে। তিনি আরও লেখেন, “অসমের অনন্য পণ্যগুলি বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের জায়গা তৈরি করছে এবং বিভিন্ন মহাদেশে রাজ্যের পরিচিতি বহন করে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই, ভবিষ্যতে অসমের আরও উৎকৃষ্ট পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছাক।”
রাজ্য সরকারের কৃষিজ, হস্ততাঁত এবং ঐতিহ্যবাহী পণ্যের আন্তর্জাতিক বিপণন সম্প্রসারণের নানা উদ্যোগের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে অসম থেকে রফতানির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে, বিশেষ করে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পণ্যের ক্ষেত্রে।
চলতি মাসের শুরুতে গুয়াহাটি থেকে সিঙ্গাপুরে জিআই-ট্যাগপ্রাপ্ত তেজপুর লিচুর প্রথম আন্তর্জাতিক চালান পাঠানোর সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি একে অসমের উদ্যানপালনভিত্তিক পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন।
সরকারের মতে, এই রফতানি উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের জন্য নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি করবে এবং রাজ্যের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
এদিকে, রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের ব্র্যান্ডিং এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষার ক্ষেত্রেও জোর দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি অসমের চারটি ঐতিহ্যবাহী পণ্য— বিহু পেপা, কার্বি আংলং হ্যান্ডলুম, বাহ শিল্প (বাঁশশিল্প) এবং দেওরি হ্যান্ডলুম পণ্য— জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। এর ফলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং বাণিজ্যিক মূল্য আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, অসমের দেশজ ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যের জন্য বৈশ্বিক বাজার তৈরি করা রাজ্য সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জীবিকা উন্নয়ন, ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও কারুশিল্প সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অসমের অর্থনৈতিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করার চেষ্টা চলছে।



















