গুয়াহাটি, ৫ আগস্ট (আইএএনএস): অসমে বন্যা-কবলিত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করার পর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বুধবার বলেন, নতুন প্রজন্মকে তিনি রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, বরং আশার প্রতীক হিসেবে দেখেন। তাঁর কথায়, “ওদের জেন জি বা জেন আলফা বলা হতে পারে, কিন্তু আমার কাছে ওরা ‘জেন হোপ’।”
বন্যা দুর্গতদের জন্য তৈরি ত্রাণ শিবির পরিদর্শনের সময় শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ সেই সফরের ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “ওদের হাসি, সরলতা এবং ভয়াবহ বন্যার মধ্যেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রতিকূলতার চেয়ে আশা সবসময়ই শক্তিশালী।”
যদিও মুখ্যমন্ত্রী তাঁর মন্তব্যে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক ঘটনার উল্লেখ করেননি, তবে সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতৃত্বে হওয়া জেন জেড-দের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তাঁর এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে হওয়া ওই আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। সেই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের রাজনৈতিক মহলের একাংশ ‘জেন জেড’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মন্তব্যকে যুবসমাজকে রাজনৈতিক সংঘাতের বদলে আশা, সাহস ও পুনর্গঠনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার বার্তা বলেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
ত্রাণ শিবিরে মুখ্যমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলেন, ত্রাণ ব্যবস্থার খোঁজ নেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।
ভারী বৃষ্টির জেরে অসমের একাধিক জেলা ধারাবাহিক বন্যার কবলে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষ এখনও বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন। রাজ্য সরকার ত্রাণ শিবির পরিচালনা, জরুরি সামগ্রী বিতরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
গত কয়েক দিন ধরে মুখ্যমন্ত্রী নিয়মিত বন্যা-কবলিত এলাকা পরিদর্শন করছেন। তাঁর দাবি, তাৎক্ষণিক ত্রাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং শিশু ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।



















