আইজল/গুয়াহাটি, ৫ আগস্ট (আইএএনএস): আসাম রাইফেলস পৃথক দুটি যৌথ অভিযানে অসম ও মিজোরামে ২৬ কোটিরও বেশি টাকার মাদক এবং সংরক্ষিত ঔষধি গাছ উদ্ধার করেছে। বুধবার প্রতিরক্ষা সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযানে মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
দক্ষিণ অসমের কাছাড় জেলায় আসাম রাইফেলস ও অসম পুলিশের যৌথ অভিযানে প্রায় ২৫ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের মেথামফেটামিন ট্যাবলেট ও হেরোইন উদ্ধার করা হয়। অভিযানে তিনজন সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মুখপাত্র জানান, ভুবন পাহাড়ের মতিনগর এলাকায় চালানো অভিযানে প্রায় ১.১০ লক্ষ উচ্চমাত্রার আসক্তিকর মেথামফেটামিন ট্যাবলেট (ওজন প্রায় ১৪ কেজি) এবং ১০টি সাবানদানি থেকে ২২৩ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক মূল্য ২৫ কোটিরও বেশি। এছাড়া পাচারচক্রে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া তিন অভিযুক্ত এবং উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য সামগ্রী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য কাছাড় জেলা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য ও মনঃপ্রভাবিত পদার্থ আইন (এনডিপিএস), ১৯৮৫ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, মিজোরামের লংতলাই জেলায় বন দফতরের সঙ্গে যৌথ অভিযানে আসাম রাইফেলস সংরক্ষিত ঔষধি উদ্ভিদ প্যারিস পলিফাইলা (স্থানীয়ভাবে ‘আঞ্চিরি’ নামে পরিচিত)-র বিশাল চালান উদ্ধার করেছে। হমাংবুচুয়াহ গ্রামে চালানো অভিযানে ৩১১টি বস্তায় মোট ১০,৫৭৪ কেজি আঞ্চিরি উদ্ধার হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১.০৫ কোটি টাকা।
এই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া পাচারের কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ঔষধি গাছ, ধৃত ব্যক্তিদের এবং বাজেয়াপ্ত যানবাহন লংতলাই বন দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের জন্য।
প্রতিরক্ষা মুখপাত্র বলেন, এই দুটি সফল অভিযান মাদক পাচার এবং সংরক্ষিত বনজ সম্পদের অবৈধ সংগ্রহ ও পাচারের বিরুদ্ধে আসাম রাইফেলসের কঠোর অবস্থানেরই প্রমাণ। বিশেষ করে ভারত-মায়ানমার সীমান্তে আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সমন্বিত প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, মায়ানমারের সঙ্গে ৫১০ কিলোমিটার অরক্ষিত আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ৩১৮ কিলোমিটার সীমান্ত থাকায় মিজোরাম উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাদক পাচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করিডর হয়ে উঠেছে। মায়ানমার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অবৈধ মাদক উৎপাদনকারী অঞ্চল ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল’-এর অংশ হওয়ায় সীমান্ত দিয়ে মাদক, বন্যপ্রাণী, অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালানের ঝুঁকি অনেক বেশি। এই পরিস্থিতিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং যৌথ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।



















