শিলং, ৫ আগস্ট (আইএএনএস): প্রস্তাবিত বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী আইন, ২০২৬ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিতে থাকা একাধিক ধারার পুনর্বিবেচনার জন্য কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানাল মেঘালয়ের ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (ইউডিপি)। বিজেপি-সমর্থিত মেঘালয় ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (এমডিএ) সরকারের অন্যতম শরিক এই দলটির দাবি, সংশোধনীগুলি কার্যকর হলে রাজ্যের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাভাবিক কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
বুধবার ইউডিপির সাধারণ সম্পাদক টিটোস্টারওয়েল চাইনে সাংবাদিকদের জানান, দলটি প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছে এবং এ বিষয়ে মেঘালয়ের চার্চ নেতাদের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমার উদ্বেগকেও সমর্থন করছে। তিনি বলেন, বিদেশি অনুদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে ইউডিপি সমর্থন করে, তবে সেই সংস্কার যেন দীর্ঘদিন ধরে জনসেবামূলক কাজ করে আসা প্রতিষ্ঠানগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।
চাইনে বলেন, “নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য কখনও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যক্রম রুদ্ধ করা হওয়া উচিত নয়।”
ইউডিপি প্রস্তাব দিয়েছে, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় অস্থায়ী মালিকানার পরিবর্তে আদালতের তত্ত্বাবধানে একটি ব্যবস্থা চালু করা হোক। পাশাপাশি সব বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্পত্তির স্থায়ী হস্তান্তর না করার বিধান রাখারও দাবি জানিয়েছে দলটি।
দলের মতে, সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চার্চ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের গড়ে তোলা জনকল্যাণমূলক সম্পদ বহু দশকের পরিশ্রমের ফল। তাই এগুলিকে পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা দেওয়া জরুরি।
ইউডিপি আরও দাবি করেছে, সংশোধিত আইনের সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিধান শুধুমাত্র আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। অতীত থেকে কার্যকর (রেট্রোস্পেকটিভ) করা হলে বহু পুরনো জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সংবিধানের ২৫ থেকে ৩০ নম্বর অনুচ্ছেদের সুরক্ষার কথা উল্লেখ করে সংখ্যালঘু ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সম্পত্তিকে এই বাজেয়াপ্তির বিধান থেকে অব্যাহতি দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া, ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত এলাকা এবং সংবিধানের ৩৭১এ থেকে ৩৭১এইচ অনুচ্ছেদের আওতাভুক্ত রাজ্যগুলিতে বাজেয়াপ্ত স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ভূমি আইন মেনে চলা এবং স্বশাসিত জেলা পরিষদ (এডিসি) বা রাজ্য সরকারের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে ইউডিপি।
এফসিআরএ নিবন্ধন বাতিলের ক্ষেত্রেও দলটির মত, শুধুমাত্র বিদেশি অনুদান সংক্রান্ত অপরাধে আদালতের চূড়ান্ত দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কেবল এফআইআর বা তদন্ত চলার কারণে কোনও সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করা উচিত নয়।
এছাড়া, যেসব সংস্থার এফসিআরএ নিবন্ধন সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে, তাদের বেতন, ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল এবং অন্যান্য আইনগত ব্যয়ের জন্য বিদ্যমান তহবিল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ারও সুপারিশ করেছে ইউডিপি, যাতে স্কুল, হাসপাতাল এবং জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলির কাজ ব্যাহত না হয়।
সবশেষে, সংশোধনী চূড়ান্ত করার আগে রাজ্য সরকার, চার্চ সংগঠন, স্বশাসিত জেলা পরিষদ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছে ইউডিপি। দলের মতে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার পাশাপাশি মেঘালয় ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যক্রমও সুরক্ষিত রাখতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও জনমুখী এফসিআরএ কাঠামো প্রয়োজন।



















