নয়াদিল্লি, ২২ জুন (আইএএনএস): আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিতের জেরে সোমবার সোনা ও রুপোর দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেল।
মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (এমসিএক্স)-এ সকাল প্রায় ১০টা ২৬ মিনিট নাগাদ আগস্ট ডেলিভারির সোনার ফিউচার্সের দাম ৬১৫ টাকা বা ০.৪২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৭,৮১৮ টাকায় লেনদেন হচ্ছিল।
দিনের মধ্যে সোনার দাম সর্বোচ্চ ১,৪৭,৯৮৭ টাকায় পৌঁছায়, যা আগের দিনের তুলনায় ৭৮৪ টাকা বা ০.৫৩ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে সর্বনিম্ন দাম ছিল ১,৪৫,১১০ টাকা, যা আগের বন্ধের তুলনায় ২,০৯৩ টাকা বা ১.৪২ শতাংশ কম। আগের সেশনে সোনা ১,৪৭,২০৩ টাকায় বন্ধ হয়েছিল এবং সোমবার লেনদেন শুরু হয়েছিল ১,৪৫,১১০ টাকা থেকে।
এদিকে, জুলাই ডেলিভারির রুপোর ফিউচার্সের দাম ২,১৩৯ টাকা বা ০.৯২ শতাংশ বেড়ে প্রতি কেজিতে ২,৩৫,৩২৪ টাকায় পৌঁছায়। আগের সেশনে রুপোর দাম ছিল ২,৩৩,১৮৫ টাকা প্রতি কেজি।
দিনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রুপোর দাম ২,৩৭,১০৬ টাকা প্রতি কেজিতে পৌঁছায়, যা আগের দিনের তুলনায় ৩,৯২১ টাকা বা ১.৬৮ শতাংশ বেশি। দিনের সর্বনিম্ন দাম ছিল ২,৩৪,২৯৬ টাকা, যা আগের বন্ধের তুলনায় ১,১১১ টাকা বা ০.৪৭ শতাংশ বেশি। এদিন রুপোর লেনদেন শুরু হয়েছিল ২,৩৭,০৮৮ টাকা প্রতি কেজি থেকে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অবশ্য কিছুটা চাপ দেখা গেছে। কমেক্স-এ রুপোর দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫.৬৩ ডলারে নেমে আসে। একইভাবে সোনার দামও প্রায় ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,১৯৮.৮০ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল।
পণ্য বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির খবর সোনার দামকে কিছুটা চাঙ্গা করেছে। তবে মার্কিন ডলার এখনও ১৩ মাসের সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি অবস্থান করায় সোনার দামের ঊর্ধ্বগতি সীমিত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমসিএক্সে সোনার বাজারে এখনও মাঝারি মাত্রার নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। সোনার ক্ষেত্রে ১,৪৪,২৫০ থেকে ১,৪২,৮০০ টাকার মধ্যে শক্তিশালী সাপোর্ট রয়েছে। অন্যদিকে ১,৪৯,৭৫০ এবং ১,৫১,১০০ টাকাকে গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্ট্যান্স স্তর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রুপোর ক্ষেত্রেও সপ্তাহের শুরুতে অস্থিরতা দেখা গেলেও বাজারে চাপ বজায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রুপোর জন্য ২,৩১,৪০০ থেকে ২,২৮,১৫০ টাকার মধ্যে সাপোর্ট রয়েছে। অন্যদিকে ২,৪১,০০০ থেকে ২,৪৪,৯০০ টাকার মধ্যে রেজিস্ট্যান্স অবস্থান করছে।
তাঁদের মতে, বর্তমানে সোনা-রুপোর অনুপাত (গোল্ড-সিলভার রেশিও) প্রায় ৬৩.৬:১ রয়েছে, যা ইঙ্গিত করছে যে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে রুপো এখনও সোনার তুলনায় দুর্বল পারফরম্যান্স করছে।
জ্বালানি বাজারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশেরও বেশি কমে ব্যারেলপিছু প্রায় ৭৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপিছু প্রায় ৭৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
























