নয়াদিল্লি, ২২ জুন (আইএএনএস): গত ১২ বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, ডেটা সেন্টার এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতির মাধ্যমে ভারত বিশ্বের অন্যতম ডিজিটাল শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সোমবার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় সরকারের একটি তথ্যপত্রে (ফ্যাক্ট-শিট) এই দাবি করা হয়েছে।
তথ্যপত্রে বলা হয়েছে, ভারত শুধু ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রয়োগযোগ্য প্রযুক্তিগত সমাধান তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শক্তিশালী নীতিগত সহায়তা, ডিজিটাল অবকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবন-ভিত্তিক পরিবেশ এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
এই রূপান্তরের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি। ২০১৪ সালে দেশে ইন্টারনেট সংযোগের সংখ্যা ছিল ২৫.১৫ কোটি, যা ২০২৬ সালে বেড়ে ১০২ কোটিরও বেশি হয়েছে। একই সময়ে ব্রডব্যান্ড সংযোগ ৬.১ কোটি থেকে প্রায় ১০০ কোটিতে পৌঁছেছে।
এছাড়াও অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের বিস্তার দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৪২ লক্ষ রুট কিলোমিটারের বেশি হয়েছে। বর্তমানে দেশের প্রায় সব জেলাতেই ৫জি পরিষেবা পৌঁছে গিয়েছে।
তথ্যপত্রে উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং মিশনের আওতায় দেশের বিভিন্ন শীর্ষ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে মোট ৩৮টি সুপারকম্পিউটার স্থাপন করা হয়েছে। এগুলির সম্মিলিত কম্পিউটিং ক্ষমতা ৪৭ পেটাফ্লপস। এর মধ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ‘পরম রুদ্র’ সুপারকম্পিউটারও রয়েছে।
সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে ৭৬ হাজার কোটি টাকার ‘সেমিকন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ১.৬৪ লক্ষ কোটি টাকার ১২টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব্রিকেশন ইউনিট, কম্পাউন্ড সেমিকন্ডাক্টর কারখানা এবং চিপ প্যাকেজিং প্ল্যান্ট।
অন্যদিকে, ১০,৩০০ কোটিরও বেশি বরাদ্দ নিয়ে চালু হওয়া ‘ইন্ডিয়াএআই মিশন’-এর অধীনে ৩৮ হাজারেরও বেশি জিপিইউ-সমৃদ্ধ একটি কমন কম্পিউটিং অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। ‘এআই কোশ’ প্ল্যাটফর্মে বর্তমানে ১২ হাজারেরও বেশি ডেটাসেট এবং ২০টি ক্ষেত্রজুড়ে ৩০০-রও বেশি এআই মডেল রয়েছে।
কোয়ান্টাম প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ভারত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। ৬,০০৩.৬৫ কোটি টাকার ‘ন্যাশনাল কোয়ান্টাম মিশন’-এর আওতায় চারটি বিশেষায়িত গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে এবং একাধিক স্টার্টআপকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ভারত ১,০০০ কিলোমিটার দূরত্বে নিরাপদ কোয়ান্টাম যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সফল প্রদর্শনও করেছে।
ডেটা সেন্টার ক্ষেত্রেও দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটেছে। ২০২০ সালে ভারতের ডেটা সেন্টার সক্ষমতা ছিল প্রায় ৩৭৫ মেগাওয়াট, যা ২০২৫ সালে বেড়ে প্রায় ১,৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। মুম্বই, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, নয়ডা এবং জামনগর এই খাতের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে।
সরকারি তথ্যপত্রে আরও বলা হয়েছে, আধার, ইউপিআই, ডিজিলকার, কোউইন, উমঙ্গ এবং গভর্নমেন্ট ই-মার্কেটপ্লেস (জিইএম)-এর মতো ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ভারতের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডিপিআই সহযোগিতা বিষয়ে ভারত ইতিমধ্যেই ২৩টি দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে। পাশাপাশি সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ফ্রান্স, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কাসহ একাধিক দেশে ইউপিআই পরিষেবা চালু হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্সে ভারতের অবস্থান ২০১৫ সালের ৮১তম স্থান থেকে ২০২৫ সালে ৩৮তম স্থানে উঠে এসেছে।
সরকারের মতে, ডিজিটাল অবকাঠামো, উদীয়মান প্রযুক্তি, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদে ধারাবাহিক বিনিয়োগের ফলে আগামী দিনের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারত একটি নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে।



















