নয়াদিল্লি, ২২ জুন (আইএএনএস): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। আলোচনার ফলে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা কমেছে এবং ইরানের তেল রফতানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশেরও বেশি কমে ব্যারেলপিছু প্রায় ৭৯ ডলারে নেমে আসে। লেনদেনের শুরুতে দাম ৮২ ডলারের উপরে উঠলেও পরে তা দ্রুত নিম্নমুখী হয়। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপিছু ৭৫ ডলারের কাছাকাছি লেনদেন হতে দেখা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনা শেষ হওয়ার পরই তেলের বাজারে এই পতন দেখা যায়। এই আলোচনা মূলত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহেই অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশেরও বেশি কমেছিল। কারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছিল যে উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা তেলের চালান বাজারে ছাড়া হতে পারে এবং বৃহত্তর কোনও চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের তেল রফতানির উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও শিথিল হতে পারে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, তেহরান তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে কিছু ছাড়পত্র, আটকে থাকা কিছু সম্পদ মুক্ত করার অনুমতি এবং দেশের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা শুরু করার সুযোগ পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে, যা ইঙ্গিত করে যে বাজার আপাতত বড় ধরনের সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কাকে মূল্য নির্ধারণে প্রতিফলিত করছে না।
তবে তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও অস্থির এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। ফলে বিনিয়োগকারীদের পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখা প্রয়োজন।
বাজার বিশ্লেষকদের বক্তব্য, “নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার খবর এবং সুইজারল্যান্ডের আলোচনা থেকে ইরানের সরে দাঁড়ানোর রিপোর্ট সামনে আসার পর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারবাজার মিশ্র বা নেতিবাচক প্রবণতায় খুলেছে। ফলে বিশ্ববাজারে এখনও সতর্ক মনোভাব বজায় রয়েছে।”
এদিকে তেলের দাম কমায় শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সোমবার দেশের প্রধান সূচকগুলি প্রাথমিক লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
অর্থনীতিবিদদের মতে, অপরিশোধিত তেলের দামের সাম্প্রতিক পতন ভারতসহ তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলির জন্য স্বস্তির বার্তা। এর ফলে আমদানি ব্যয় কমতে পারে, মুদ্রাস্ফীতির চাপ হ্রাস পেতে পারে এবং চলতি হিসাবের ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করবে।



















