বেলগ্রেড, ৬ আগস্ট (আইএএনএস): তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং প্রবল বাতাসের জেরে সার্বিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তর-পূর্ব সার্বিয়ার সংরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকা ডেলিব্লাটো স্যান্ডসে ফের আগুন ছড়িয়ে পড়ে প্রায় ৩০০ হেক্টর পাইন বন পুড়ে গেছে।
সার্বিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএস-এর খবর অনুযায়ী, প্রায় ১০ দিন আগে নিয়ন্ত্রণে আনা দাবানলটি মাটির নিচে জ্বলতে থাকা আগুনের উৎস প্রবল বাতাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠায় ফের ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানী বেলগ্রেড থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পূর্বে দক্ষিণ বানাত অঞ্চলের এই আগুন এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
সার্বিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগুন নেভাতে সব ধরনের জনবল ও সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। আরটিএস জানিয়েছে, বিভিন্ন শহরের ৪৫ জন দমকলকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী অগ্নিনির্বাপক বাহিনী এবং পুলিশের তিনটি হেলিকপ্টার আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও বসতবাড়ি সরাসরি হুমকির মুখে পড়েনি।
এদিকে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও একাধিক দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি পরিষেবার কর্মীরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
দাবানলের এই পরিস্থিতির মধ্যেই সার্বিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। দেশটির প্রজাতান্ত্রিক আবহাওয়া দফতর বুধবার ও বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে। রাজধানী বেলগ্রেড এবং উত্তরাঞ্চলীয় ভয়ভোদিনা প্রদেশে উষ্ণ রাতও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী খরার প্রভাবে দেশের নদীগুলির জলস্তরও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আবহাওয়া দফতর সতর্ক করেছে, দানিয়ুব, সাভা ও তিসা নদীর জলস্তর আগামী কয়েক দিন নৌচলাচলের প্রয়োজনীয় সীমার নিচে থাকতে পারে। পাশাপাশি, টানা শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ছোট নদীগুলির প্রবাহও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার ন্যূনতম স্তরের কাছাকাছি নেমে এসেছে।
চলতি মৌসুমে ইউরোপজুড়েই তীব্র তাপপ্রবাহ ও দাবানলের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে রাষ্ট্রসংঘের ইউরোপীয় অর্থনৈতিক কমিশন (ইউএনইসিই) জানায়, ২০২৬ সালে ইতিমধ্যেই ইউরোপে ৪ লক্ষ ৩৪ হাজার হেক্টরেরও বেশি বনভূমি আগুনে পুড়ে গেছে।
ইউএনইসিই-র মতে, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাজুড়ে চলমান দাবানল আবারও প্রমাণ করছে যে আগুন একবার ভয়াবহ রূপ নিলে তা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হলেও, ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় রোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা জরুরি।



















