নয়াদিল্লি, ২৮ মে (আইএএনএস): ভারতের ব্যাংকিং, আর্থিক পরিষেবা এবং বিমা (বিএফএসআই) খাত বিশ্ব গড়ের তুলনায় ১.৬ গুণ বেশি সাইবার হামলার সম্মুখীন হচ্ছে। একই সঙ্গে গত চার বছরে এই ধরনের ঘটনার সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে বলে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ এবং ভারতের তথ্য নিরাপত্তা পরিষদ-এর যৌথ রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের বিএফএসআই খাতে সাইবার ঘটনার সংখ্যা ২০২১ সালে ১৪ লক্ষ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২৯ লক্ষে পৌঁছেছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতে কোনও সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘন নিয়ন্ত্রণে আনতে গড়ে ২৬৩ দিন সময় লাগছে এবং এই সময়সীমা ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে সাইবার প্রতিরোধ ও ক্ষতি মোকাবিলার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ আরও বাড়ছে।
বিশেষ করে মাঝারি আকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তর এবং বিভিন্ন সিস্টেমের গভীর আন্তঃসংযোগের ফলে তাদের ঝুঁকির মাত্রা বড় সংস্থাগুলির সমান হয়ে উঠলেও সেই অনুপাতে সাইবার নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বাড়েনি।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের BFSI খাত বর্তমানে এমন এক কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে যেখানে প্রচলিত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর যথেষ্ট নয়। দ্রুত বদলে যাওয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-নির্ভর হুমকি মোকাবিলায় নতুন কৌশলের প্রয়োজন হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে এখন একসঙ্গে AI-চালিত সাইবার হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে, সাইবার নিরাপত্তায় এআই ব্যবহার করতে এবং নিজেদের এআই সিস্টেমকেও সুরক্ষিত রাখতে হবে। রিপোর্টে একে “সিঙ্ক্রোনাস সিকিউরিটি চ্যালেঞ্জ” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিশা বাচানি বলেন, এআই সাইবার ঝুঁকির অর্থনীতিকেই বদলে দিয়েছে। এর ফলে হামলার জন্য সময় কমে এসেছে এবং অত্যাধুনিক হুমকি তৈরি করার খরচও কমেছে।
তবে তাঁর মতে, প্রতিরক্ষা ও ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে মাঝারি স্তরের সংস্থাগুলিতে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি, কারণ ঝুঁকি বাড়লেও বিনিয়োগ সীমিত।
বিনায়ক গোডসে বলেন, উন্নত এআই প্রযুক্তি বিএফএসআই খাতে সাইবার ঝুঁকি, ডিজিটাল বিস্তার এবং ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতার মধ্যে দ্রুত সংযোগ তৈরি করছে। ভবিষ্যতে আর্থিক ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ধারণ করবে এআই-চালিত ব্যবস্থাকে কতটা নিরাপদ রাখা যাচ্ছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জন্য ৭৬ শতাংশ চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার (সিআইএসও) এআই-নির্ভর হামলাকে তাদের প্রধান সাইবার উদ্বেগ হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে ৮৩ শতাংশ সংস্থা ইতিমধ্যেই সাইবার অপারেশনে এআই অন্তর্ভুক্ত করছে।
এছাড়া, ৭১ শতাংশ সংস্থা নিরাপত্তা পরিচালনা কেন্দ্রে এআই-সহায়ক পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে এবং অনেকেই স্বয়ংক্রিয় বা এজেন্টিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ভারতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির সক্রিয় ভূমিকা সাইবার নিরাপত্তার শক্ত ভিত তৈরি করতে সাহায্য করেছে। তবে আগামী দিনে শুধু নিয়ন্ত্রণভিত্তিক কাঠামো নয়, বরং ব্যবসা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, আইন এবং প্রযুক্তি বিভাগের মধ্যে সমন্বিত স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তোলার উপর জোর দিতে হবে।
এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা, হুমকি সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান এবং তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো আরও শক্তিশালী করার সুপারিশও করা হয়েছে রিপোর্টে।



















