নয়াদিল্লি, ১৮ জুন (আইএএনএস) : ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অংশগ্রহণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। দলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থ, জ্বালানি সার্বভৌমত্ব এবং কৌশলগত স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে কংগ্রেসের বিদেশ বিষয়ক বিভাগের প্রধান ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সালমান খুরশিদ বলেন, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস আশা করেছিল যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জি৭ সম্মেলনকে গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্বে ভারতের অবস্থান তুলে ধরার এবং দেশের জ্বালানি সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও কৌশলগত স্বাধীনতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করবেন। কিন্তু সম্মেলনের ফলাফল বক্তব্য ও বাস্তবতার মধ্যে একটি উদ্বেগজনক ব্যবধানকে সামনে এনেছে।
খুরশিদের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতের জ্বালানি স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নিতে পারেননি। পাশাপাশি, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ওএফএসি নিষেধাজ্ঞা ছাড়ও আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
তিনি বলেন, এটি একটি হারানো সুযোগ। এর ফলে জ্বালানি সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিজেপি সরকারের ধারাবাহিক আপসের নীতি আরও স্পষ্ট হয়েছে। আগে ইরান ও ভেনেজুয়েলা থেকে ছাড়মূল্যের তেল আমদানি বন্ধ করা হয়েছিল, পরে রাশিয়া থেকে আমদানিও কমানো হয়েছে। এর প্রভাব সাধারণ মানুষকে বেশি জ্বালানি ও ভোগ্যপণ্যের মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে বহন করতে হচ্ছে।
অপারেশন সিঁদুর-পরবর্তী যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর নীরবতার সমালোচনা করেন খুরশিদ। তাঁর অভিযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরোক্ষভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে নিজের ভূমিকার দাবি করলেও প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া জানাননি।
খুরশিদের মতে, এই নীরবতাকে হয় প্রেসিডেন্টের দাবির প্রতি নীরব সম্মতি, নয়তো প্রকাশ্যে তার বিরোধিতা করতে অনীহা হিসেবে দেখা যেতে পারে। এটি দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা না মানার ভারতের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির নীতিকেও দুর্বল করে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে “সমর্থন” দেওয়ার ট্রাম্পের প্রস্তাবেরও গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত হতে পারে অথবা বাহ্যিক আগ্রাসনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি হিসেবেও ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।
ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর দাবি, বিজেপি সরকারের “স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন” পররাষ্ট্রনীতির কারণে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা দূর করতে প্রধানমন্ত্রী কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতার মোকাবিলাতেও ভারত পিছিয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেননি বলে মন্তব্য করেন খুরশিদ। তাঁর দাবি, ভারত এখনও অর্থনৈতিক চাপের মুখে থাকলেও কোনও সুবিধাজনক বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করা যায়নি।
বিবৃতির শেষে তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের বিষয়টি ভারতের জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত নয়। হোয়াইট হাউস বা সাউথ ব্লকে যে-ই থাকুন না কেন, ভারতের স্বার্থই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।



















