কলকাতা, ১৮ জুন (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বোস (আর.এন. রবি হিসেবে উল্লিখিত) বৃহস্পতিবার রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে যে অনুপ্রবেশের সমস্যা ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল, বর্তমান সরকার তা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের সূচনা হয় রাজ্যপালের ভাষণের মাধ্যমে। ভাষণে তিনি বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে দীর্ঘদিনের অনুপ্রবেশের কারণে জনবিন্যাসে (ডেমোগ্রাফি) পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরেন।
রাজ্যপাল বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারের আমলে যেসব অসামাজিক শক্তি আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়েছিল, বর্তমান সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে। একই সঙ্গে অবৈধ বিদেশি ও অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাদের ফেরত পাঠানোর উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাজ্যের আন্তর্জাতিক সীমান্তের যেসব অংশে এখনও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়নি, সেখানে কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যে কোনও মূল্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।”
দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যও বর্তমান পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকাকে প্রশংসা করেন রাজ্যপাল।
এছাড়াও তিনি কলকাতা মেট্রো সম্প্রসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে পূর্ববর্তী সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, “কলকাতা মেট্রো রেলের সম্প্রসারণের কাজ দীর্ঘদিন আটকে ছিল। নতুন সরকার সেই কাজ পুনরায় শুরু করেছে।”
বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া বিধানসভার বাজেট অধিবেশন আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত চলবে। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ২২ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বিধানসভায় অন্তর্বর্তীকালীন (ভোট-অন-অ্যাকাউন্ট) বাজেট পেশ করেছিলেন। এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনের কারণে তখন পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করা সম্ভব হয়নি। ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করে।
গত সপ্তাহে অর্থ দপ্তরের দায়িত্ব পাওয়ার পর অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছিলেন, করের হার বৃদ্ধি না করেই রাজ্যের নিজস্ব কর-রাজস্ব বৃদ্ধি করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।



















