কলকাতা, ১৮ জুন (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার আদালতের একক বেঞ্চ বহিষ্কৃত তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক রিতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভায় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ গোষ্ঠীর নেতা এবং সরকারি বিরোধী দলনেতা (এলওপি) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার স্পিকারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি বুধবার শেষ হয়েছিল। তবে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও রায় সংরক্ষিত রেখেছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে বিচারপতি রাও স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেন। ফলে রিতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আপাতত বিরোধী দলনেতা হিসেবেই দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবেন।
এর ফলে তৃণমূলের সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার দাবি কার্যত খারিজ হয়ে গেল।
বর্তমানে ২৯৪ সদস্যের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ৮০ জন বিধায়ক রয়েছেন। এর মধ্যে ৬০ জন বিধায়ক রিতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী ও সংখ্যাগরিষ্ঠ গোষ্ঠীর সঙ্গে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও চলতি সপ্তাহের শুরুতে রিতব্রত দাবি করেছিলেন, তাঁর সমর্থক বিধায়কের সংখ্যা ৬৪।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অনুগত মূল গোষ্ঠীর সঙ্গে রয়েছেন মাত্র ২০ জন বিধায়ক।
তবে বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দিলেও বিচারপতি কৃষ্ণ রাও জানিয়েছেন, মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২৮ জুলাই। তিনি মামলার উভয় পক্ষকে পরবর্তী শুনানির আগে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, অসীমা পাত্র ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী শিবিরের উপনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে বিধানসভায় তৃণমূলের চিফ হুইপ হিসেবে মনোনয়নের যে প্রস্তাব স্পিকারের কাছে জমা পড়েছিল, তাতে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষরে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে।
রিতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা এই অভিযোগ তোলার পরই রাজ্যের সিআইডি তদন্ত শুরু করে।
এরপর তৃণমূল কংগ্রেস রিতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। পরে রিতব্রতের নেতৃত্বে ৬০ জন বিধায়ক বিদ্রোহ ঘোষণা করে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠ গোষ্ঠী দাবি করে নতুন প্রস্তাব স্পিকারের কাছে জমা দেন।
স্পিকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে রিতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এরপরই সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়।



















