এভিয়াঁ (ফ্রান্স), ১৭ জুন (আইএএনএস): ফ্রান্সের এভিয়াঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে বুধবার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি ‘সবার জন্য ভারসাম্যপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পুনরুজ্জীবন’ শীর্ষক কর্ম-অধিবেশনে যোগ দেন।
অধিবেশন শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিভা।
এর আগে মঙ্গলবার ‘নতুন অংশীদারিত্ব গঠন ও আন্তর্জাতিক সংহতি পুনর্নির্মাণ’ শীর্ষক অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় অগ্রগতিকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি।
তিনি বলেন, “পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে যে অগ্রগতি হয়েছে, আমরা তাকে স্বাগত জানাই। এই সংঘাত আমাদের বন্ধুপ্রতিম পশ্চিম এশীয় দেশগুলিতে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি ঘটিয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ও বৈশ্বিক সংহতি তখনই অর্থবহ হবে, যখন বিশ্ব একযোগে অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা করবে।
মোদি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের স্থায়ী সমাধান শুধুমাত্র সংলাপ, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমেই সম্ভব।
তিনি বলেন, “অনেক ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। বিশ্ব সামুদ্রিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখতে হবে, যাতে নাবিকরা ভয়মুক্ত পরিবেশে তাঁদের কাজ করতে পারেন।”
এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভারত এ বিষয়ে সব অংশীদার দেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
প্রধানমন্ত্রী মোদি আরও বলেন, বর্তমান অনিশ্চিত বিশ্বে বাণিজ্য ও প্রযুক্তিকে অনেক সময় সংকীর্ণ স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক পরিসরে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
তাঁর কথায়, “আজকের দিনে পারস্পরিক বিশ্বাসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিশ্বের সমস্যা সম্পদের অভাব নয়, বরং বিশ্বাসের অভাব। আর আমাদের ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের সাফল্য নির্ভর করবে সেই বিশ্বাস পুনর্গঠনের ওপর।”
তিনি ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, ভারত গোটা বিশ্বকে এক পরিবার হিসেবে দেখে। ভারতের অভিজ্ঞতা বলছে, মানুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে উন্নয়নকে যুক্ত করতে পারলেই তা সবচেয়ে কার্যকর হয়।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারত বরাবরই ‘মানবতা প্রথম’ নীতিতে বিশ্বাসী এবং দেশের সব প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতেই এই দর্শন রয়েছে।



















