বেঙ্গালুরু, ১৭ জুন (আইএএনএস): বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) ইস্যুতে কর্নাটকের কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুললেন কর্নাটক বিজেপি সভাপতি বি. ওয়াই. বিজয়েন্দ্র। একইসঙ্গে তিনি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-র নাগরিকত্ব নিয়ে পুরনো বিতর্কও ফের উত্থাপন করেন।
বুধবার বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজয়েন্দ্র বলেন, ভোটার তালিকার বিশেষ পুনর্বিবেচনা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং এটিকে রাজনৈতিক রং দেওয়া উচিত নয়।
তিনি অভিযোগ করেন, “এসআইআর ইস্যুতে কংগ্রেস সরকার দ্বৈত ভূমিকা পালন করছে। সরকারি আধিকারিকদের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হল অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, ভোটার তালিকায় থাকা ডুপ্লিকেট নাম এবং মৃত ব্যক্তিদের নাম চিহ্নিত করা।”
বিজেপি নেতা রাহুল গান্ধীর নাগরিকত্ব প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রী এবং গৃহমন্ত্রীকে বলতে চাই, রাহুল গান্ধীর দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে তাঁর প্রকাশ্যে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। কংগ্রেসকেও এ বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।”
বিজয়েন্দ্রর অভিযোগ, রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষ, সরকারি কর্মচারী এবং সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, যা “অমার্জনীয় অপরাধ”।
কর্নাটকের মন্ত্রী প্রিয়ঙ্ক খার্গে-র সাম্প্রতিক আরএসএস-বিরোধী মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “প্রিয়াঙ্ক খাড়গে মনে করছেন তিনি যেন রাজ্যের নয়, দেশের গৃহমন্ত্রী। আরএসএস নিয়ে তিনি যে প্রশ্ন তুলেছেন, তা নতুন কিছু নয়। রাজ্যের আরও গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা রয়েছে, যেগুলির দিকে নজর দেওয়া উচিত।”
বিজয়েন্দ্র দাবি করেন, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ, ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ এবং হিন্দু কর্মীদের উপর হামলার মতো বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিবর্তে সরকার অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছে।
রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করেন বিজেপি নেতা। তাঁর অভিযোগ, সরকার পর্যাপ্ত অর্থ জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিতে কাটছাঁট করছে।
তিনি বলেন, “সরকারের উচিত রাজ্যের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা জনগণের সামনে তুলে ধরা। গত তিন বছরে গরিব ও কৃষকদের প্রতিশ্রুত বাড়ি দিতে পারেনি সরকার।”
কংগ্রেসের গ্যারান্টি প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজয়েন্দ্র। তাঁর দাবি, সরকার ধীরে ধীরে এই প্রকল্পগুলির সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমানোর পথ খুঁজছে।
তিনি বলেন, “কিছু কংগ্রেস নেতা দাবি করেছেন যে ১.৫ লক্ষেরও বেশি মহিলা সুবিধাভোগী আয়করদাতা, ফলে তাঁদের ‘গৃহ লক্ষ্মী’ প্রকল্পের সুবিধা প্রয়োজন নেই। যদি তাঁদের বাদ দেওয়া হয়, তবে সরকার প্রায় ৬০ কোটি টাকা সাশ্রয় করতে পারবে। এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে সরকার গ্যারান্টি প্রকল্পে কাটছাঁটের পরিকল্পনা করছে।”
এছাড়া গ্যারান্টি বাস্তবায়ন কমিটিগুলির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য সরকার এই কমিটিগুলিকে সরকারি স্বীকৃতি, দফতর এবং মন্ত্রিসভার সমমর্যাদা দিয়েছে। যদি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন এই কমিটিগুলি কী করছিল?
বিজয়েন্দ্রর দাবি, আর্থিক সংকটের কারণে কংগ্রেস সরকার তার প্রধান জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি চালিয়ে যেতে পারছে না এবং এখন সেই ব্যর্থতার দায় অন্যের উপর চাপানোর চেষ্টা করছে।



















