নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৫ জুন:
মেলাঘর ইন্দ্রনগর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পুকুরে স্নান করাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক রক্তক্ষয়ী ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সামান্য কাঁদা ছোড়াছুড়ির প্রতিবাদ করায় এক মহিলা, তাঁর স্বামী এবং শ্বশুরের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে এলাকার কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে একই পরিবারের তিন সদস্য মেলাঘর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ইন্দ্রনগর এলাকার একটি পুকুরে কয়েকজন নাবালক ছেলে স্নান করতে নামে। স্নানের সময় তারা দুষ্টামির ছলে একে অপরের দিকে কাঁদা ছুড়ছিল। সেই সময় এলাকার বাসিন্দা হাসিনা আক্তারও পুকুরে স্নান করতে যান। অভিযোগ, ছেলেদের ছোড়া কাঁদা আচমকাই গিয়ে পড়ে তাঁর কানে।
এ ঘটনায় হাসিনা আক্তার প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, পরে একই এলাকার আশাবুল, ইউসুফ মিয়া, আরিফ হোসেন এবং বিলাল মিয়া নামে চার যুবক তাঁর ওপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করে।
স্ত্রীর ওপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন আক্তার হোসেন এবং তাঁর বাবা মফিজ মিয়া। পরিবারের সদস্যরা হাসিনা আক্তারকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাঁদের ওপরও হামলা চালায় বলে অভিযোগ। লাঠিসোঁটা দিয়ে বেধড়ক মারধরের ফলে তিনজনই গুরুতরভাবে আহত হন।
পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে মেলাঘর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
ঘটনার জেরে ইন্দ্রনগর ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
সামান্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের তিন সদস্যের ওপর হামলার ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে এলাকায় শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা হোক।



















