চেন্নাই, ১০ জুন (আইএএনএস): সরকারি ব্যয় কমানো এবং যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন দফতরে চুক্তিভিত্তিক বা পুনর্নিয়োগপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক, উপদেষ্টা ও পরামর্শদাতাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে উদ্যোগী হয়েছে তামিলনাড়ু সরকার।
রাজ্যের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা দফতর সমস্ত দফতরের সচিবদের নির্দেশ দিয়েছে, তাঁদের অধীনস্থ দফতরে কর্মরত পরামর্শদাতা, উপদেষ্টা এবং পুনর্নিয়োগপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে।
সরকারি সূত্রের মতে, এই পর্যালোচনার মাধ্যমে সরকার মূল্যায়ন করতে চায় যে এসব নিয়োগ কতটা প্রয়োজনীয় এবং তাঁদের দ্বারা পরিচালিত প্রশাসনিক কাজগুলি নিয়মিত সরকারি কর্মীদের মাধ্যমে সম্পাদন করা সম্ভব কি না।
সূত্রের দাবি, পূর্ববর্তী ডিএমকে সরকারের আমলে হওয়া বিভিন্ন নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা মূল্যায়নের বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যালোচনার ফলাফলের ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণ করা হবে।
বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতর, বোর্ড, কর্পোরেশন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিতে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ পদ শূন্য রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন নিয়োগের মাধ্যমে শূন্যপদ পূরণ করে যোগ্য যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে সরকার।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বা কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন হয় এমন বিভিন্ন কাজে বহু দফতর বছরের পর বছর ধরে উপদেষ্টা, পরামর্শদাতা এবং অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নিয়োগ করে এসেছে। কিছু ক্ষেত্রে তাঁদের মাসিক পারিশ্রমিক কয়েক লক্ষ টাকাতেও পৌঁছেছে।
তামিলনাড়ু সচিবালয় অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে. ভেঙ্কটেশন সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনটি অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ব্যাপক পুনর্নিয়োগ এবং সরকারি দফতরগুলিতে অতিরিক্ত পরামর্শদাতানির্ভরতার বিরোধিতা করে আসছে।
তাঁর বক্তব্য, নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সরকারি চাকরিপ্রত্যাশী যুবকদের আরও বেশি সুযোগ করে দেওয়ার দাবি বারবার বিভিন্ন সরকারের কাছে জানানো হয়েছে।
তবে শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের একাংশের মতে, এখনও অনেক দফতর বিশেষজ্ঞ পরিষেবার জন্য পরামর্শদাতাদের উপর নির্ভরশীল। আইন, অর্থ এবং পুর প্রশাসন দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আইন বিশেষজ্ঞ, আর্থিক উপদেষ্টা ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাঁদের মতে, এই ধরনের নিয়োগ কমানো বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যথাযথ পরিকল্পনা করা প্রয়োজন, যাতে জরুরি পরিষেবা বা প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, সব দফতরের রিপোর্ট জমা পড়ার পর একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সমন্বিত রিপোর্টটি মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়-এর কাছে পেশ করা হবে এবং তিনিই পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবেন।
_______
























