নয়াদিল্লি, ১০ জুন (আইএএনএস): পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেও ভারত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরি।
আইএএনএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গত কয়েক মাস ধরে বিশ্ব তেলবাজারের ওঠানামা সফলভাবে সামলেছে ভারত এবং ভবিষ্যতেও পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখা হবে। পাশাপাশি, জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং আত্মনির্ভরতার প্রচেষ্টার ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুদৃঢ় রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
পুরী বলেন, “গত ১০০ দিন যেভাবে পরিস্থিতি সামলেছি, আগামী ৩০ বা ৬০ দিনও একইভাবে পরিচালনা করার চেষ্টা করব। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন হলে এবং তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করতে হবে।”
পশ্চিম এশিয়ার চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষিতে ভারতের তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে তিনি জানান, অতীতের তুলনায় বর্তমানে ভারত সম্ভাব্য যেকোনও বিঘ্ন মোকাবিলায় অনেক বেশি সক্ষম।
মন্ত্রী জানান, ভারতের প্রায় ৭ শতাংশ এলপিজি সরবরাহ এবং প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি হরমুজ প্রণালী হয়ে আসে।
তিনি বলেন, “যুদ্ধবিরতি ভবিষ্যতে বৃহত্তর ইরান-আমেরিকা চুক্তিতে রূপ নেবে, নাকি উত্তেজনা আরও বাড়বে, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে আমি কোনও জল্পনা করতে চাই না।”
জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার প্রসঙ্গে পুরী বলেন, ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচি এবং নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিতে ভারত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। একইসঙ্গে দেশীয় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উৎপাদন কার্যক্রমও সম্প্রসারিত হচ্ছে।
তাঁর কথায়, “অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে, বায়োফুয়েলের ব্যবহার বাড়ছে এবং সৌরশক্তির ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে আমরা ধীরে ধীরে জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার দিকে এগোচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, কেন্দ্রের ‘সমুদ্র মন্থন’ উদ্যোগের আওতায় নতুন কূপ খনন এবং দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ৯০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
জ্বালানির মূল্য প্রসঙ্গে পুরী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও দিল্লিতে পেট্রলের দাম চার বছর আগের তুলনায় এখনও কম রয়েছে। এর কৃতিত্ব তিনি ২০২১ সালের নভেম্বর, ২০২২ সালের মে মাস এবং পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তকে দেন। পাশাপাশি বিজেপি-শাসিত কয়েকটি রাজ্যে ভ্যাট কমানোর কথাও উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় ভর্তুকিযুক্ত এলপিজি সিলিন্ডারের সুবিধা সীমিত করার বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ভর্তুকির অপব্যবহার রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তাঁর দাবি, কিছু সুবিধাভোগী ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডার বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করছেন বা অন্যদের কাছে বিক্রি করছেন— এমন তথ্য সরকারের হাতে আসে। এরপরই সুবিধা প্রাপকদের কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা হয়।
পুরী বলেন, “সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়া, পাশাপাশি কল্যাণমূলক প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও অপচয় রোধ করাই সরকারের অগ্রাধিকার।”
























