বেঙ্গালুরু, ৩০ মে (আইএএনএস): কর্ণাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি (কেপিসিসি) শনিবার ঘোষণা করেছে যে কেপিসিসি সভাপতি ডি.কে. শিবকুমার আগামী ৩ জুন কর্ণাটকের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। বেঙ্গালুরুর লোক ভবনের গ্লাস হাউসে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার বিকেল ৪টায় নির্ধারিত কংগ্রেস লেজিসলেচার পার্টি (সিএলপি)-র বৈঠকের আগেই এই ঘোষণা করা হয়।
দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথ জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে কেপিসিসির কার্যকরী সভাপতি ও রাজ্যসভার সদস্য জি.সি. চন্দ্রশেখর জানান, সাধারণ মানুষের অসুবিধা এড়াতে এবং অনুষ্ঠানকে সংযত রাখতে দল শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে সাদামাটা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন, “সিদ্ধারামাইয়ার নেতৃত্বে চালু হওয়া জনকল্যাণমূলক গ্যারান্টি প্রকল্পগুলি মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আমরা এবং দল চাই ডি.কে. শিবকুমার সেই কাজকে এগিয়ে নিয়ে যান। সেই ভাবনা থেকেই অনুষ্ঠানকে সরল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
চন্দ্রশেখর জানান, শিবকুমারের সমর্থকেরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য প্রায় এক হাজার বাসের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে ৩ জুন কর্মদিবস হওয়ায় শহরবাসীর অসুবিধার কথা বিবেচনা করে সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “এটি কোনও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান হবে না। জনগণের সেবার প্রতি দলের অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটাবে এমন একটি সরল অনুষ্ঠান হবে। তাই কর্মী-সমর্থকদের বড় জমায়েত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের কংগ্রেস কর্মী ও শিবকুমারের অনুরাগীদের বেঙ্গালুরুতে না আসার আবেদনও জানান তিনি।
চন্দ্রশেখর বলেন, “আমরা অনুরোধ করছি, কেউ যেন শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য বেঙ্গালুরুতে না আসেন। সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সহযোগিতা করুন। এই অনুষ্ঠানটি যেন একটি আদর্শ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।”
তিনি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শিবকুমার রাজ্যের বিভিন্ন জেলা সফর করবেন এবং সেখানেই দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
নতুন মন্ত্রিসভার গঠন প্রসঙ্গে চন্দ্রশেখর বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কতজন মন্ত্রী শপথ নেবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
“শিবকুমার কংগ্রেস লেজিসলেচার পার্টির নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর এবং সিদ্ধারামাইয়া আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্ব হস্তান্তর করার পরে নতুন মন্ত্রিসভার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে,” তিনি জানান।
সিদ্ধারামাইয়া সরকারের গত তিন বছরের বিভিন্ন জনমুখী কর্মসূচির উল্লেখ করে চন্দ্রশেখর বলেন, কংগ্রেস আশা করছে যে শিবকুমারের নেতৃত্বে সেই উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।



















