পুনে, ৩০ মে (আইএএনএস): ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী শনিবার বলেছেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতির প্রয়োজনে সম্ভাব্য ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’-এর জন্যও ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর তিনটি শাখাই সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে।
পুনেতে জাতীয় প্রতিরক্ষা একাডেমি (এনডিএ)-র ১৫০তম কোর্সের পাসিং আউট প্যারেড (পিওপি) শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমানে সংঘর্ষবিরতি কার্যকর থাকলেও সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখেছে।
তিনি বলেন, “অপারেশন সিঁদুর এখনও চলমান। বর্তমানে শত্রুতামূলক কার্যকলাপে সাময়িক বিরতি রয়েছে। তাই ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং তিন বাহিনীই সম্ভাব্য ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’-এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আমরা আগামী প্রজন্মের যুদ্ধের জন্যও নিজেদের প্রস্তুত করছি।”
ভবিষ্যতের যুদ্ধের চরিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে উল্লেখ করে জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, আগামী দিনে যুদ্ধ আর শুধু স্থল, সমুদ্র ও আকাশসীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
তিনি বলেন, “ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে মহাকাশ, সাইবার এবং কগনিটিভ বা মানসিক যুদ্ধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই নতুন ক্ষেত্রগুলির জন্যও আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।”
সেনাপ্রধানের মতে, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্র এখন অনেক বেশি স্বচ্ছ হয়ে উঠেছে, যেখানে প্রতিপক্ষের কাছে সেনা চলাচল ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান হয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, “আজকের যুদ্ধক্ষেত্র ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকে এবং অত্যন্ত স্বচ্ছ। এক পক্ষের প্রতিটি পদক্ষেপ অন্য পক্ষ সহজেই পর্যবেক্ষণ করতে পারে। তাই সেনা মোতায়েন, তাদের ব্যবহার এবং সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে।”
তথ্যযুদ্ধের (ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার) গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, যেকোনও সংঘাতে সাফল্যের জন্য জনগণের আস্থা এবং জাতীয় ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তার কথায়, “জয় সবসময় মাটিতে নয়, মানুষের মনে অর্জিত হয়। তাই তথ্যযুদ্ধ তখনই সফল হয়, যখন গোটা দেশ একসঙ্গে দাঁড়ায় এবং তথ্য প্রদানকারীদের ওপর আস্থা রাখে। একটি জাতির মানুষ যদি একে অপরকে এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারকে বিশ্বাস করে, তবে সেই জাতি যুদ্ধে সবসময়ই সফল হবে।”
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ টেনে সেনাপ্রধান বলেন, এই অভিযান ভারতের দৃঢ়তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর নির্ভুল ও লক্ষ্যভিত্তিক জবাব দেওয়ার সক্ষমতার পরিচয় বহন করে।
তিনি বলেন, “অপারেশন সিঁদুর দেখিয়েছে যে ভারত প্রয়োজনে কতটা পরিকল্পিত, নির্ভুল এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম। এই অভিযানে সমন্বিত পরিকল্পনা, রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য, নির্ভুল লক্ষ্যভেদ, শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা, সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের মধ্যে সমন্বয়ের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে।”
সেনাপ্রধান আরও জানান, যুদ্ধের পরিবর্তিত চরিত্র সম্পর্কে ভারতীয় সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ সচেতন এবং ভবিষ্যতের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের রূপান্তরের জন্য বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তার মতে, সেনাবাহিনীকে “ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত বাহিনী” হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রযুক্তি, সমন্বয় এবং যৌথ কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, তরুণ অফিসার ও সেনা সদস্যরাই আগামী দিনে এই রূপান্তরের মূল চালিকাশক্তি হবেন এবং উদীয়মান বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীকে আরও সক্ষম করে তুলবেন।



















