নয়াদিল্লি, ২৯ মে (আইএএনএস) : ভারতে বসবাসকারী ২,৬৮০-রও বেশি অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর নাগরিকত্ব যাচাই সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে দ্রুত সাড়া পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করল ভারত।
শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে নাগরিকত্ব যাচাই সম্পন্ন হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী সমস্ত বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, আগেই জানানো হয়েছে যে ২,৬৮০-রও বেশি ব্যক্তির তথ্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে যাতে তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাই করতে পারে। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই আমরা বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর অবস্থায় পৌঁছব।
তিনি আরও জানান, অনেক ক্ষেত্রে এই যাচাই প্রক্রিয়া পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে রয়েছে। আমাদের আশা, বাংলাদেশ এই বিষয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাবে যাতে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার ভিত্তিতে এই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়।
চলতি মাসের শুরুতেই ভারত সরকার বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিল, যাতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সহজ হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বাংলাদেশের জনগণকে ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা জানান। একইসঙ্গে তিনি দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ত্যাগ, সাংস্কৃতিক ঐক্য এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের অভিন্ন লক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
তিনি লেখেন, ভারত সরকার জনগণকেন্দ্রিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। আমাদের জাতীয় উন্নয়নের অভিন্ন লক্ষ্য দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণের উদ্দেশ্যেই নিবেদিত।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদির শুভেচ্ছাবার্তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তরফে সামাজিক মাধ্যমে জানানো হয়, ঈদ-উল-আযহার শুভক্ষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আন্তরিক শুভেচ্ছার জন্য আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক আরও মজবুত হোক।



















