নয়াদিল্লি, ২৯ মে (আইএএনএস) : শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া পকসো মামলায় জ্যোতির্পীঠের শঙ্করাচার্য স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী এবং তাঁর শিষ্য মুকুন্দানন্দ গিরিকে দেওয়া অগ্রিম জামিন বাতিল করতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতি এম. এম. সুন্দরেশ এবং বিচারপতি এন. কোটিস্বর সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ শুক্রবার আধ্যাত্মিক নেতা আশুতোষ ব্রহ্মচারী মহারাজের দায়ের করা বিশেষ অনুমতি আবেদন (এসএলপি) খারিজ করে দেয়।
আশুতোষ ব্রহ্মচারী এলাহাবাদ হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, যেখানে স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ এবং তাঁর সহ-অভিযুক্তকে অগ্রিম জামিন দেওয়া হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্ট এসএলপি গ্রহণ না করায় এলাহাবাদ হাইকোর্টের দেওয়া অগ্রিম জামিনের নির্দেশ বহাল থাকল।
প্রয়াগরাজের ঝুঁসি থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইন (পকসো)-এর বিভিন্ন ধারায় এই মামলা দায়ের হয়েছিল।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি জিতেন্দ্র কুমার সিনহার একক বেঞ্চ অগ্রিম জামিন মঞ্জুর করার সময় বলেছিল, “মামলার বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং মামলার মূল বিষয়ে কোনও মন্তব্য না করেই বলা যায় যে, অগ্রিম জামিন দেওয়ার উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”
গত ২৫ মার্চের নির্দেশে হাইকোর্ট জানায়, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হলে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং দু’জন জামিনদারের ভিত্তিতে মুক্তি দিতে হবে। পাশাপাশি তদন্তে সহযোগিতা করা এবং সাক্ষীদের প্রভাবিত না করার মতো একাধিক শর্তও আরোপ করা হয়।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে অভিযোগপত্রে একাধিক অসঙ্গতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব এবং নির্যাতিতদের বয়ানে ঘটনাস্থল ও ঘটনার সময় নিয়ে অসামঞ্জস্য।
আদালত জানায়, অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী তিনি ১৮ জানুয়ারি ২০২৬-এ ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পারেন। কিন্তু “পুজো/যজ্ঞে ব্যস্ত থাকার” কারণ দেখিয়ে তিনি ছয় দিন পরে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন অভিযুক্ত, নির্যাতিত এবং অভিযোগকারী কাউকেই সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার না দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
এই মামলার সূত্রপাত হয় আশুতোষ ব্রহ্মচারী মহারাজের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে। এরপর একটি বিশেষ পকসো আদালত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয়।
এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এলাহাবাদ হাইকোর্ট স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দকে অন্তর্বর্তী গ্রেপ্তারি সুরক্ষা দিয়েছিল এবং তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছিল।
শুনানির সময় অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে তাঁদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তারা অভিযোগ করে, নির্যাতিতদের বয়ানে অসঙ্গতি রয়েছে, অভিযোগ দায়ের করতে দেরি হয়েছে এবং মেডিক্যাল প্রমাণও নেই।
অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশ সরকার এবং অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে বলা হয়, অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি সাক্ষীদের প্রভাবিত করার আশঙ্কার কথাও জানানো হয়।



















