নয়াদিল্লি, ২৯ মে (আইএএনএস) : পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং পড়ুয়াদের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যেই নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে জানাল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)।
নিট-ইউজি পরীক্ষার পরিচালনা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে দায়ের হওয়া একগুচ্ছ মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় এনটিএ দাবি করেছে, ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা বাতিল এবং বিষয়টি সিবিআই তদন্তে পাঠানো থেকেই বোঝা যায় যে পরীক্ষা ব্যবস্থার সততা রক্ষার বিষয়টিকে তারা কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
এনটিএ তাদের হলফনামায় জানিয়েছে, “৩ মে ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত নিট (ইউজি) ২০২৬ পরীক্ষা বাতিল করা এবং ১২ মে বিষয়টি তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া থেকেই স্পষ্ট যে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও সততা রক্ষার বিষয়টিকে এনটিএ এবং ভারত সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।”
তারা আরও বলেছে, “পড়ুয়াদের স্বার্থ এবং জাতীয় স্তরের পরীক্ষা ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা বজায় রাখার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
গত ২৫ মে সুপ্রিম কোর্ট এনটিএ-কে নির্দেশ দিয়েছিল যে নিট-ইউজি ২০২৪ বিতর্কের পর প্রাক্তন ইসরো প্রধান কে. রাধাকৃষ্ণনের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশগুলি কতটা কার্যকর হয়েছে, সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই এই হলফনামা দাখিল করা হয়েছে।
এনটিএ জানিয়েছে, ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষাটি দেশের ৫৫২টি শহর এবং বিদেশের ১৪টি শহরের মোট ৫,৪৩২টি কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষায় অংশ নেন ২২ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী।
সংস্থার দাবি, বায়োমেট্রিক যাচাই, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর সিসিটিভি নজরদারি এবং মোবাইল জ্যামার-সহ কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল।
হলফনামায় বলা হয়েছে, ৭ মে সন্ধ্যায় পরীক্ষায় অনিয়ম সংক্রান্ত কিছু তথ্য এনটিএ-র হাতে আসে। পরদিনই সেই তথ্য যাচাইয়ের জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির কাছে পাঠানো হয়। তদন্তকারী সংস্থার রিপোর্ট পাওয়ার পরই পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সুপ্রিম কোর্টে এনটিএ দাবি করেছে, “সততা, যথাযথ সতর্কতা এবং আইন মেনেই” তারা পদক্ষেপ করেছে, যাতে পরীক্ষা পদ্ধতির বিশ্বাসযোগ্যতা এবং প্রকৃত পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
চলমান তদন্তে সিবিআইকে সবরকম সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থা।
এছাড়া এনটিএ আদালতকে জানিয়েছে, আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলা পুনঃপরীক্ষা আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীনে নেওয়া হবে। এতে মুখ্যসচিব, রাজ্যের ডিজিপি, জেলাশাসক, ডাক বিভাগ-সহ বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বাড়তি সমন্বয় থাকবে।
রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী একাধিক সংস্কার ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে বা কার্যকর করার শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক যাচাই, এআই নির্ভর সিসিটিভি নজরদারি, সব কেন্দ্রে মোবাইল জ্যামার বসানো, বহুস্তরীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি।
এনটিএ আরও জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞ কমিটি ভবিষ্যতে নিট-ইউজি পরীক্ষাকে কলম-কাগজ ভিত্তিক পদ্ধতি থেকে কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষায় (সিবিটি) রূপান্তরের সুপারিশ করেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী পরীক্ষাচক্র থেকেই এই পরিবর্তন কার্যকর করা হবে।
এর আগে চলতি সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র সরকার, এনটিএ এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে নোটিস পাঠিয়ে নিট-ইউজি পরিচালনায় কাঠামোগত সংস্কার এবং অবিলম্বে সিবিটি পদ্ধতি চালুর বিষয়ে জবাব তলব করেছিল।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছিল, ২০২৪ সালের বিতর্ক থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরেও পরীক্ষা ব্যবস্থার সততা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
শুক্রবার মামলাটি শুনানির জন্য উঠলেও সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা অন্য একটি বেঞ্চে ব্যস্ত থাকায় শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়।



















