তিরুবনন্তপুরম, ২৯ মে (আইএএনএস) : তিরুবনন্তপুরমে নিজের ভাড়া বাড়িতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর তল্লাশির দুই দিন পর অবশেষে মুখ খুললেন কেরলের বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পিনারাই বিজয়ন। শুক্রবার তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকে নিশানা করতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে “রাজনৈতিক অস্ত্র” হিসেবে ব্যবহার করছে।
কেরল বিধানসভায় রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকরের ভাষণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজয়ন প্রথমবার সরাসরি ইডি অভিযানের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। যদিও তল্লাশি প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠতেই তাঁকে কিছুটা অস্বস্তিতে দেখা যায়।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অ-বিজেপি সরকারগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ইডিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।”
তিনি এই অভিযোগকে শুধু কেরলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতীয় রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত করেন।
কংগ্রেসকেও একহাত নিয়ে বিজয়ন বলেন, “কংগ্রেস নিজেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না হলে এসব পদক্ষেপকে সমর্থন করে। তারা চায় এই সংস্থাগুলিকে তাদের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও এম. কে. স্ট্যালিনদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হোক।”
বিজয়ন আরও দাবি করেন, বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বাড়তি ব্যবহার দেশের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের পরিপন্থী।
তবে তাঁর মেয়ে ভীণা বিজয়নকে ঘিরে বিতর্কিত সিএমআরএল-এক্সালজিক আর্থিক লেনদেন মামলার বিষয়ে তিনি খুব সতর্ক অবস্থান নেন।
ভীণা বিজয়নের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে বলে যে খবর প্রকাশ্যে এসেছে, তা স্বীকার করে তিনি বলেন, “ভীণার একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে।”
তবে ইডি আধিকারিকরা তাঁর বাড়িতে তল্লাশির সময় তাঁকে কোনও প্রশ্ন করেননি বলেও জানান বিজয়ন।
শুক্রবারের এই মন্তব্য ইডি অভিযানের পর বিজয়নের প্রথম রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অভিযান ঘিরে ইতিমধ্যেই কেরলের রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
যদিও তিনি গোটা ঘটনাকে কেন্দ্রীয় সংস্থার “অপব্যবহার”-এর বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, তবে তদন্তে কী অভিযোগ বা প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে সে বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য এড়িয়ে গিয়েছেন।
তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, ইডির এই তদন্ত এখন শুধুমাত্র আইনি লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা কেরলের রাজনৈতিক সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।



















